#চট্টগ্রাম এডিটরস ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ওসমান গণি মনসুর সংবর্ধিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রথমে প্রেস কাউন্সিলে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত, হুট করে মামলা করা সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক।
আজ রবিবার (২১ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আব্দুল খালেক মিলনায়তনে চট্টগ্রাম এডিটরস ক্লাবের আয়োজনে সংগঠনের উপদেষ্টা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ওসমান গনি মনসুরকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় ওসমান গনি মনসুরকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও পূর্ববাংলা পত্রিকার সম্পাদক এম. আলী হোসেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ইউএসটিসির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জাহিদুল করিম কচি এবং চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত।
স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাবের অর্থ সম্পাদক জসিম উদ্দিন এবং শুভেচ্ছা ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন দৈনিক দেশ বর্তমানের সম্পাদক এস. এম জমির ও পূর্বধারা পত্রিকার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন।
অনুষ্ঠানে সম্বর্ধিত অতিথির জীবন বৃত্তান্ত পাঠ করেন চট্টগ্রাম পোস্টের সম্পাদক মোহাম্মদ আইয়ুব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রেস কাউন্সিলে করতে হবে, হুট করে ফৌজদারী মামলা করা উচিত নয়। আমি বহুবার এ বিষয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছি। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এটি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “ওসমান গনি মনসুর বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী একজন সাংবাদিক। তিনি দক্ষ সংগঠক, সৃজনশীল লেখক, নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক ও মননশীল পাঠক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।”
এম এ মালেক আরও বলেন, “১৯৮৪-৮৫ সালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সাংগঠনিক দক্ষতা আমি প্রত্যক্ষ করেছি। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে আমার বিশ্বাস, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য হিসেবে তিনি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।”
সংবর্ধিত অতিথি ওসমান গনি মনসুর বলেন, “ছবি তোলার শখ থেকেই আমার সাংবাদিকতায় আসা। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে কোনো পদ-পদবির জন্য কারও কাছে তদবির করিনি। আমার কাজের মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান করেছে। আজ চট্টগ্রাম এডিটরস ক্লাব আমাকে সংবর্ধনা দেওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”
প্রবীণ সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বলেন, “একটি সংবাদপত্রের প্রধান ব্যক্তি হচ্ছেন সম্পাদক। সম্পাদক যদি মনে করেন কোনো সংবাদ প্রকাশ করা উচিত, তবে তিনি তা প্রকাশ করবেন; আর যদি মনে না করেন, তবে তিনি তা প্রকাশে বাধ্য নন। সম্পাদকরা সংবাদ ও সাংবাদিকতার মর্যাদার প্রতীক।”
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, “ওসমান গনি মনসুরের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তাঁর এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নয়, পুরো চট্টগ্রামের গর্ব।”
বক্তারা বলেন, ওসমান গনি মনসুরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে রয়েছে বহু ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা। তাঁর এই অর্জন সমগ্র চট্টগ্রামবাসীকে সম্মানিত করেছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম এডিটরস ক্লাবের যুগ্ন সম্পাদক ও সকালের চট্টগ্রাম সম্পাদক মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক বায়োজিদ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও দি ক্রাইম পত্রিকার সম্পাদক আশীষ চন্দ্র নন্দী, বাংলাধারা সম্পাদক ফেরদৌস শিপন,এজাহার সম্পাদক মো. শফিউল আলম, দি পিস সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী, ইস্টার্ন ট্রেড সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম মাহমুদ, আজকের সত্য সংবাদের সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ, আন্দরকিল্লার সম্পাদক নুরুল আফছার এবং চট্টগ্রাম নিউজের সম্পাদক হারাধন চৌধুরী প্রমুখ।




