# ভাত ও চা নাস্তা বাবদ তিন মাসে ব্যয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা
# টিমের সদস্যদের বিলাসী জীবন-যাপন
# অতিষ্ঠ সিডিএ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের একটি অডিট টিম চট্টগ্রাাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে(সিডিএ)তে ৫০ কার্যদিবস পর্যন্ত অর্থাৎ টানা তিন মাসের জন্য চউক রেস্ট হাউসে বিভিন্ন নথি নিরীক্ষনের জন্য অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। এ টিমের মূল নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিম লীডার রাফিউল ইসলাম। তার নেতৃত্বে রয়েছে আরো ৪ জন সদস্য। তাদের সকল খাওয়া দাওয়া ও বিনোদনমূলক কর্মকান্ডের ব্যয় নির্বাহ করেন চউক কর্তৃপক্ষ।
সুত্রে জানা গেছে, টিম লীডার সহ অন্যন্য সদস্যরা মূল কার্যবিধি পরিচালনা না করে উৎকোচ আদায়ের জন্য ইমারত নির্মাণ কমিটির দুই সদস্য সচিব বরাবরে নকশানুমোদন অর্থাৎ অনুমোদিত বিসি কেইচ নথির সাইট পরিদর্শনের জন্য লিখিত পত্র প্রেরণ করেন যা তাদের একতিয়ার বহির্ভুত বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক কর্মকর্তা এ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নাম প্রকাশে জনৈক কর্মকর্তা এ প্রতিনিধিকে জানান, বিসি কেইচ নথি নিরীক্ষাকরণ বা অনুমোদিত নকশার সাইটে গিয়ে তদারকি করার দায়িত্ব তাদের এখতিয়ারে নেই। এটা ওই অডিট টিমের বারাবারি কিংবা সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিকট থেকে মোটাংকের ঘুষ আদায়ের কৌশল মাত্র।
তিনি আরো বলেন, সরকারী অর্থানুকুল্যে যে সব প্রকল্প চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করছে সে প্রকল্পগুলোর অর্থ যাতে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তা কিংবা ঠিকাদারের যোগসাজশে নয়ছয় করতে না পারে তার সঠিক নিরীক্ষা করা তাদের একমাত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। এছাড়াও ছোট একটি প্রতিষ্ঠানে লাঘাতার ৫ জনের একটি টিম ৩ মাস নিরীক্ষা কার্যক্রম চালানো রহস্যজনক।
সিডিএ সুত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আগে এ অডিট টিম এ অফিসে আসে। মাস দুয়েক অথবা অনেক সময় তিন মাস পর্যন্ত তারা বিভিন্নভাবে নথি নিরীক্ষা করে থাকে।নিরীক্ষার নামে বিশেষ করে সিডিএ’র এমন কোন দপ্তর নেই তারা ঘুষ আদায়ের জন্য বিচরণ করেনা। ছোট থেকে বড় সকল দপ্তরেই তারা হানা দেয়। তাদের নিপীড়নে অতিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। যারা তাদের কথায় ঘুষ দিতে রাজী হয়না তাদের বিরুদ্ধে দিয়ে থাকে অহেতুক অডিট আপত্তি। এরুপ অসংখ্য অডিট আপত্তি সিডিএ’র অনেক কর্মকর্তার ঘাড়ে নিস্পত্তিহীনভাবে ঝুলে রয়েছে।
এবিষয়ে অডিট টিমের প্রধান রাফিউল ইসলাম এর সাথে ০১৬৮২-৬০১১৯৫ মুঠোফোন আলাপকালে তিনি এ প্রতিবেদকের নিকট ৫০ কার্য দিবস অর্থাৎ টানা তিন মাসের জন্য নিরীক্ষা পরিচালনার কথা জানান। বিসি কেইচ এর সাইট তদন্তে তাদের এখতিয়ার রয়েছে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি প্রকৌশলী চেয়ারম্যান নুরুল করীমের দপ্তরে বৈঠকে বসার আহবান জানান।
৫০ কার্য দিবসের নিরীক্ষা সংক্রান্ত বাংলাদেশ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কোন চিঠি ইসু করা হয়েছে বা তার কাছে আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি এ প্রতিবেদকের নিকট কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি।
সুত্রে জানা গেছে, ৫ সদস্য বিশিষ্ট অডিট টিমের জন্য প্রতিদিন চউকের হিসাব শাখার মারফতে বকলম অডিট অফিসার আনোয়ারের মাধ্যমে ২০০০ হাজার টাকা দুইবেলা ভাত ও চা নাস্তা বাবদ নিয়মিত পরিশোধ করা হয়।তাহলে প্রতিমাসে তাদের জন্য খরছ হচ্ছে ৬০ হাজার টাকা। এ খরছের পরিমান তিন মাসে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়াও রয়েছে গাড়ী বরাদ্ধ। তারা মাঝে মাঝে সিডিএ’র জ্বালানী পুড়ে যায় আনন্দ ভ্রমনেও। এ বিশাল ব্যয় কার স্বার্থে করছে সিডিএ?
বাংলাদেশ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের একটি সুত্রে জানা গেছে,এ অডিট টিমের প্রত্যেক সদস্য বিনা খরছে ভোগ বিলাস করলেও সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা পুনরায় তাদের অফিস বহন করে থাকে।
সারা বালাদেশে অডিটের নামে ওপেন ঘুষ বানিজ্য চলার কারণে প্রকল্পে সরকারী বরাদ্ধের অর্ধেক টাকা তারা নিজেরায় লুটে নেয়। ফলে উন্নয়ন কাজে নয়ছয় করতে বাধ্য হয় সকল সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।




