দি ক্রাইম ডেস্ক: সরকার হাডলাইনে যাওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন।
ইব্রাহিম খোকন জানান, আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ৫ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে, বন্দর অচলের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ১৫ কর্মচারীর বাসার বরাদ্দ বাতিল করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। রবিবার রাতে বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রশাসন) নাসির উদ্দিনের সই করা আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন জানান, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত থাকবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রোজাকে সামনে রেখে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রশাসন) নাসির উদ্দিনের সই করা আদেশে বলা হয়, গত ২ ফেব্রুয়ারি বদলি করার পর দুই কার্যদিবসের মধ্যে তাদের বদলি হওয়া কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা বদলি হওয়া কর্মস্থলে এখনো যোগদান করেননি। এ অবস্থায় তাদের অনুকূলে বরাদ্দ করা চট্টগ্রাম বন্দরের বাসা (যদি থাকে) বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের অনুরোধ করা হলো।
সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন অভিযোগ করেছেন, তাদের ৫ কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- শামসু মিয়া টুকু, আবুল কালাম আজাদ, আনোয়ার হোসেন, ফকির সুমন এবং রিপন সরকার।
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে শ্রমিক ও কর্মচারীরা আন্দোলন ও কর্মবিরতিতে যান। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে রূপ নেয়। ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
চট্টগ্রাম বন্দর অচল করে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে বন্দরের ১৫ জন কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়।
একই দিন বিকেল ৩টার দিকে বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে শ্রমিক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাখাওয়াত হোসেন। বৈঠক শেষে কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য ফেরে। ওইদিন সকাল থেকে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয় বন্দরটিতে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবারো ধর্মঘটের ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকন ও মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।
সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের দাবি, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছিল। ওই সময় বন্দর চেয়ারম্যানের উসকানিমূলক পদক্ষেপে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরই প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রেখে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেন তারা।




