নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের কক্সবাজারের চকোরিয়া উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত একটি সাফারি পার্ক, যেখানে পশুপাখি মুক্ত অবস্থায় বিচরণ করে। এটি বাংলাদেশের প্রথম সাফারি পার্ক। কক্সবাজার জেলা সদর হতে উত্তরে পার্কটির দূরত্ব ৪৫ কি:মি: এবং চকরিয়া সদর হতে দক্ষিণে ১১ কি:মি: এর আয়তন প্রায় ৯০০ হেক্টর।
সাফারী পার্ক হল, সরকার ঘোষিত এলাকা যেখানে বণ্যপ্রানীদেরকে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রতিপালন করা হয়। কক্সবাজার জেলা সদরের দক্ষিণ বন বিভাগের ফাসিঁয়াখালি রেঞ্জের ডুলাহাজারা ব্লকে অবস্থিত। ১৯৮২ সালে অবিভক্ত কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলাধীন ডুলাহাজারা ব্লকের ৪২.৫ হেক্টর বনাঞ্চল নিয়ে একটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে উঁচু-নিচু টিলাসমৃদ্ধ চিরসবুজ এ বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও আবাসস্থলের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এর আয়তন ৯০০ হেক্টর বৃদ্ধি করে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কক্সবাজার’-এর যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ডুলহাজারা সাফারি পারর্ক নামে পরিচিত।
বন বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, এই পার্কটিতে বছরে প্রায় ১,৫০,০০০ পর্যটক ভ্রমণ আসেন। পার্কের প্রবেশ মূল্য প্রাপ্ত বয়স্ক ১০০ টাকা (একশত), অপ্রাপ্ত বয়স্ক (৫-১২ বছর) ৫০ (পঞ্চাশ টাকা), শিশু ৫ বছরের নীচে ফ্রি, বিদেশী দর্শনার্থী জনপ্রতি ১০০০ (একহাজার টাকা) বা সমপরিমান ইউএস ডলার, শিক্ষা সফর ছাত্র সংখ্যা- ১-১০০ ১০০০ (একহাজার টাকা), ১০১-২৫০ ১৫০০ (একহাজার পাচশত টাকা), পিকনিক স্পট প্রতি দলের জন্য ২০০০ (দুই হাজার টাকা)। সপ্তাহে মঙ্গোলবার ছাড়া ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্য়ন্ত পার্ক খোলা থাকে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক মূলত হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে ৩০ থেকে ৪০ প্রজাতির প্রানী রয়েছে যার মধ্যে বাঘ, সিংহ, হাতি, ভালুক, গয়াল, কুমির, জলহস্তী, মায়া হরিণ, সম্বর হরিণ, চিত্রা হরিণ, প্যারা হরিণ প্রভৃতি প্রাণীও রয়েছে। এই পার্কে স্বাদুপানির কুমির যেমন আছে, তেমনি আছে লোনা পানির কুমির। এছাড়াও ২০১৭ থেকে এ পার্কে তৈরী করা হয়েছে কৃত্রিম আফ্রিকান সাফারি যেখানে আফ্রিকান প্রাণী হিসেবে রয়েছে জেব্রা ও নু-হরিণ। ডুলহাজারা সাফারী পার্কে বিভিন্ন বেষ্টনীতে দেশি-বিদেশি ১০০ প্রজাতির পাখি রয়েছে, ৬৯টি সরীসৃপ ও ১৫০টি স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে । এছাড়াও পার্কে হরিণ, বানর, বন বিড়াল, মেছোবাঘ, বুনো শূকর, সজারু, বনমোরগ, ফিঙে, ঘুঘু, চিলসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া শীতকালে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে ওঠে পার্কের বিভিন্ন লেক ও জলাশয়।
সাফারী পার্কের দেওয়া তথ্য মতে, নতুন ভাবে নীল গাই আনা হয়েছে পার্কে এছাড়াও নতুন করে বাঘ ও সিংহ আনা হবে। আরো জানা যায় দর্শনার্থীদের জন্য সময় উপযুগী অবকাঠামো, চলাচলের পথ, মনোরম লেক, উচু টাওয়ার, পিকনিক শেড, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের ঘোরাঘুরির জন্য ১টি এসি ও ২টি নন-এসি বাস রয়েছে, দর্শনার্থীদের টয়লেট, উন্নত হোটেল ও রেষ্টের ব্যবস্থ্যা করা হয়েছে। বর্তমানে পার্কে আসা দর্শনার্থীরা মন ভরে উপভোগ করতে পারবে।
পার্কে ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মোঃ মনির বলেন, ২বছর আগে আমি একবার আসছিলাম। আগের থেকে বর্তমান অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে, অবকাঠামোগত দিক, চলাচলের রাস্তা, নিরাপত্তার দিকটা, সবথেকে বড় বিষয় পার্কের কর্মকর্তা কর্মচারীদের আচারনগত দিকটির অনেক পরিবর্তন হয়েছে যা আমার অনেক ভালো লেগেছে। কুমিরের বিষ্টনি, নিল গাই, পাখিশালা, ভল্লুকের স্থান, হরিন এর স্থান সহ সব গুলো স্থান মন ছুয়ে গেছে।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মন্জুরুল আলম বলেন, আমি এই দ্বায়িত্বটাকে চাকরি মনে করি না। এটা আমার দ্বায়িত্ব আর এআলোকেই চেষ্টা করছি, আমার সকল সহকর্মীদের দর্শনার্থী বান্ধব হবে। তাদের দ্বয়িত্ব গুলো নিজ দ্বায়িত্বে পালন করবে। পার্কে থাকা প্রতিটি পশু পাখিকে যন্তসহকারে দেখাশোনা করবে। আমি আশা করি স্থানীয় রাজনীতিবিদ, জনসাধারণ, প্রশাসন, সাংবাদিক সহ পার্কে আসা সকল দর্শনার্থী তাদের নিজেদের পার্ক মনে করবে। যখন সবাই নিজেদের পার্ক মনে করবে। তখনই সম্ভব নতুন পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা।
তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে নীলগাই পার্কে নতুন অথিতি হিসাবে এসেছে, নতুন বাঘ ও সিংহ আসবে অচিরেই।




