বান্দরবান প্রতিনিধি: নারী উন্নয়নে মাঠ পর্যায়ে সরকারের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কাজের পরিধি ব্যাপক। কিন্তু বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে জনবল ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে সরকারের লক্ষ্য উদ্দেশ্যের কার্যক্রম।
এই দপ্তরে অফিসপ্রধানসহ ৫জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ থাকলেও। কর্মরত আছেন মাত্র ১জন। আর তাঁর হাতেই যেনো নারী উন্নয়নের সব ভার পড়েছে। এতে বিঘ্ন হচ্ছে সরকারী নির্দিষ্ট কার্যক্রম। এরপরও নানা সংকটের মাঝেও পাহাড়ের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে কর্মকর্তা নেই। দায়িত্ব পালন করছেন অফিস সহকারী। কাগজে কলমে ৫জনের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১জন। দাপ্তরিক কাজ চলছে সত্তর দশকের পুরনো জরাঝীর্ণ টিন সেড ভবনে। সেই ভবনটির দেয়ালে ফাটল ধরেছে। টিনের ছাউনী ও বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে পড়ছে। ভাঙ্গা রুমে চলমান ব্যাচে বিউটিফিকেশন শিখছেন ২৫জন নারী।
অন্যদিকে অবকাঠামো সমস্যার কারণে টেইলারিং ও ব্লক-বাটিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের ভাড়া করা দূরে অন্য একটি রুমে। সেখানেও গাদাগাদি করে প্রশিক্ষণ নেন ২৫ নারী। বর্ষা মৌসুম এলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পুরো অফিস পানির নিচে তলিয়ে যায়। কয়েক যুগ ধরে জীবনের ঝুকি নিয়ে এই অফিস কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ চলে আসলেও প্রতিষ্ঠানটি সংষ্কারের কোন উদ্যোগ নেই।
সম্প্রতি সরেজমিনে কথা হলে বিউটিফিকেশনের প্রশিক্ষণার্থী পারুল বড়ুয়া বলেন- বাড়িতে বেকার সময় পার না করে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছেন। কাজ শেখার পর নিজেকে স্বাবলম্বী করে তোলতে পারবেন। তবে অফিসের যে দূরবস্থা তাতে করে আগামীতে অফিস কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। অন্য এক প্রশিক্ষণার্থী সাবেকুন্নাহার বলেন- গাদাগাদি করে বেঞ্চে বসে তারা প্রশিক্ষণ নেন। উপরের টিন, বোর্ড ভেঙ্গে পড়ছে। নিজেদের তাগিদে তারা প্রশিক্ষণে জোর দিচ্ছেন, কিন্তু অফিসের পরিবেশ নিয়ে তারা ব্যতীত।
প্রশিক্ষক সুমিতা চাকমা জানান- গ্রামীণ নারীদের মাঝে কাজ শেখার প্রচুর আগ্রহ রয়েছে। প্রত্যেক ব্যাচের নারীদের তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিকে কাজ শেখাচ্ছেন। যাতে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পরিবার ও দেশের জন্য অবদান রাখতে পারেন।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন- নানা সংকটের মাঝেও নারীদের উন্নয়ন, দারিদ্র্য নিরসন, আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি নারী নির্যাতন, নারীর অধিকার নিয়ে তারা কাজ করছেন। তিন মাসের আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ বিউটিফিকেশন ও ব্লক-বাটিক কাজের মাধ্যমে নারীদের মাঝে স্বাবলম্বী হওয়ার যে স্বপ্ন তৈরী হয় এতে তারা আনন্দিত। ঝুকিপূর্ণ অফিসের বিষয়ে ইতিপূর্বে বহুবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারীবান্ধব সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের জনবল ও অবকাঠামো সংকট কেটে গেলে পাহাড়ী সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আত্মকর্মসংস্থান তৈরীর সহায়ক হবে। এতে উৎপাদনমুখী কর্মকান্ডে অবদান রাখতে পারবে তারা।



