প্রেস বিজ্ঞপ্তি: প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির দামপাড়াস্থ কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ব্যবসা-প্রশাসন বিভাগের বিবিএ ৪৬ ও ৪৭ তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।গতকাল (শনিবার ০৯ মার্চ)সকাল সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত এই ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদের সহকারী ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ মঈনুল হক।
বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী শামীম সুলতানা, ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদের প্রফেসর অমল ভূষণ নাগ।
প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, তোমরা স্কুল, কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছো। বস্তুত তোমরা একটা বিশাল ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছো। এখানে তোমরা বিশ্বের জ্ঞান অর্জন করবে। তোমরা স্কুল-কলেজে হয়তো বাণিজ্য বিভাগে পড়েছো। এখানে আরো বিস্তারিতভাবে বাণিজ্য সম্পর্কে তোমরা পড়ার সুযোগ পাবে। তিনি বস্তুর সঙ্গে বস্তুর বিনিময় প্রথা, প্রাচীন ব্যবসা পদ্ধতির কথা তুলে ধরেন। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ অব্দের আগে মহাবীর আলেকজান্ডারের এই উপমহাদেশে আসার কথা ও তার প্রভাবে তখন বিশ্বায়ন গড়ে উঠার কথা বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, মাঝখানে ষষ্ঠ শতকে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর ইউরোপে নানা নৃ-গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ফলে ইউরোপের সঙ্গে চীন-ভারত প্রভৃতির বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বিশ্বায়ন কিছুটা থেমে গেছিল। যে-বাণিজ্য চলত, ভূমধ্য সাগরের তীরবর্তী আরব সাম্রাজ্যের মধ্য দিয়ে। তিনি আরও বলেন, পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষদিকে দুই আমেরিকা আবিষ্কারের পরে আবারও বিশ্বায়ন শুরু হয়। ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে আমেরিকা পেট্রো-ডলারের মাধ্যমে বিশ্বের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি আমেরিকা ডলার ব্যবহার করে কীভাবে শক্তিশালী হয়েছে, তার বিবরণও দেন।
তিনি আরো বলেন, ব্যবসা ও শিল্পে ভ্যালু এড করা না গেলে ব্যবসা ও শিল্পের অবক্ষয় ঘটতে থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র রাস্তা-ঘাট-ব্রিজ, বিদ্যুৎ প্লান্ট ইত্যাদি তৈরি করে ব্যবসা-বাণিজ্য-শিল্পের বিস্তার ঘটানোর জন্য কীভাবে বিভিন্ন অবকাঠামো সৃষ্টি করে, তা তোমাদের বুঝতে হবে। একটি দেশের মূলধন (capital) সঞ্চয়নের পেছনে মানবসম্পদ মূলধন (human capital) সৃষ্টির বিরাট অবদান রয়েছে। তোমরাই সেই মানবসম্পদ মূলধন। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের মানবসম্পদ হয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী শামীম সুলতানা বলেন, বিবিএ-কে কেবল একটি সনদ বা ডিগ্রি হিসেবেই বিবেচনা করা যাবে না। বরং বলা যায়, এটি একজন ব্যক্তিকে নতুনভাবে তৈরি করে; তার চরিত্রের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের সংযোগ ঘটায়। চিন্তা, পরিকল্পনা, সংগঠন ও নেতৃত্ব এইসব বিবিএ-র প্রথম বর্ষ থেকেই পাঠ্যসূচির অন্তর্ভ্ক্তু হয়। তিনি আরও বলেন, যে-কোনো সফল প্রযুক্তিতে প্রোডাকশন সাপ্লাই মার্কেটিং-এর ধারাবাহিক চক্রকে পার হতে হয়। কাজেই উন্নততর প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের নেপথ্যে রয়েছে ব্যবসা-প্রশাসনের চিন্তার প্রণালী।
প্রফেসর অমল ভূষণ নাগ বলেন, আমাদের কাজ হচ্ছে নবীন শিক্ষার্থীদের চেঞ্জ করা অর্থাৎ তাদের ভ্যালু এড প্রদান করা। সুতরাং তাদের আগামী চার বছর ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে।
প্রফেসর মোহাম্মদ মঈনুল হক বলেন, তোমরা সুশিক্ষিত হলে অন্যরা তোমাদের ব্যবহার করতে পারবে না।
বিভাগের শিক্ষক নাঈমা নাজনিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




