পেকুয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লা ঘোনা গ্রামে চাঁদার দাবিতে সরকারী স্কুলের এক শিক্ষিকার বাড়ির সীমানা পিলার ভাংচুর করেছে দূর্বূত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে, আজ ২৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে। এ ঘটনায় পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষিকার বসতবাড়ির জায়গা-জমি সন্ত্রাসী কায়দায় জবর দখলে নিতে চেষ্টা করছে শিক্ষিকার প্রতিবেশি কিছু দূর্বূত্তরা। গত এক মাসে চাঁদার দাবিতে বেশ কয়েক দফা শিক্ষিকার বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ভাংচুর ও লুট করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) ভূক্তভোগী শিক্ষিকা জুবাইদা আকতার পেকুয়া থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পেকুয়া থানা পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
লিখিত অভিযোগে শিক্ষিকা উল্লেখ করেছেন, তিনি পেকুয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল কাসেম এর কন্যা। তিনি বিগত ২১বছর পূর্বে ১০৫৯ নং কবলা মূলে ইদ্রিস ও বাদশার কাছ থেকে পেকুয়া মৌজার বিএস খতিয়ান নং ৩৯৮, বিএস দাগ নং ১৭৫৬ এর ৪শতক জমি দলিলমূলে ক্রয় করেন।
এছাড়া বিগত ০২-১১-২০০২ ইংরেজী তারিখ সালেহা বেগম, স্বামী ডা: আজিজুল হক, তাদের কন্যাদ্বয় আয়েশা পারভীন, সায়েরা ইয়াসমিন ও ফাতেমা জোহরার কাছ বিএস দাগ নং ১৮৯৬ নং দাগের ২৯ শতক জমি ক্রয় করে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে আছেন। যার নামজারী জমাভাগ খতিয়ান নং ৩৬০৪। কিন্তু উক্ত জমি ক্রয় করার পর থেকে সীমানায় ঘেরাও দেওয়ার চেষ্টা করলে বাদশা ও তার ছেলেরা বার বার ঘেরা ভেঙ্গে ফেলে। মানসম্মানের কথা বিবেচনা করে উক্ত বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করাকালীন নানা অজুহাতে বাদশা মিয়া আমার কাছ থেকে টাকা নেয়। টাকা নেওয়ার পরও জবান ঠিক রাখেনা বাদশা মিয়া।
বিগত ০৭/১২/২০২৩ইং তারিখে উক্ত জমির সীমানা তৈরি করার সময় আর কখনো বাঁধা দিবে না মর্মে বাদশা মিয়া স্থানীয় এমইউপি ফোরকান ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণের উপস্থিতিতে ৩০০টাকা মূল্যমানের ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে পুন:রায় নগদ পাচ হাজার টাকা আমার কাছ থেকে গ্রহণ করেন। টাকা নেওয়ার পর বাদশা মিয়া গং উক্ত সীমানা নিয়া কোনো ঝামেলা সৃষ্টি বা বাঁধা দিবে না মর্মে লিখিতখভাবে অঙ্গীকার করলেও বর্তমানে আমার শ্রমিকরা সীমানার ঘেরাও তৈরির কাজ করলে বাদশা মিয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করে পূনরায় সীমানা তৈরির কাজে বাঁধা দিচ্ছে এবং আমার পরিবারের লোকজনের উপর হামলার চেষ্টার পাশাপাশি মোটা অংকের চাঁদাও দাবি করছে।
শিক্ষিকা জুবাইদা আকতার আরো জানান, বাদশা ও তার ছেলেরা গতকাল ২৭ ডিসেম্বর আমি স্কুলে চাকুরীর কাজে কর্মরত থাকা অবস্থায় আমার স্বামী বাড়িতে শ্রমিক নিযুক্ত করে সীমানা তৈরির কাজ করার সময় আমার স্বামীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাড়ির সীমানার পিলার ভাঙচুর করে আমার ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। আমার নামীয় নামজারী ও জমাভাগ ৩৬০৪নং খতিয়ানের ১৮৯৬ দাগের আমার খরিদকৃত জমিতে কাজ করতে চাইলেও তারা বর্তমানে বাধা দিচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে শিক্ষিকার বসতবাড়ির সীমানা পিলার ভাংচুরের ঘটনায় আজ ২৭ ডিসেম্বর বিকালে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পেকুয়া থানার এএসআই রইস উদ্দিন। তিনি এসময় ভূক্তভোগী শিক্ষিকার কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনেন।



