নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ১৪টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এই তথ্য জানায়। এ ঘটনায় চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. ইমরান হোসেনকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ৮ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে চকবাজার থানা-পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ লাখ টাকার বেশি মূল্যের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক বলেন, ১৪টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং স্বর্ণালংকার আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশের দাবি, গত ১২ অক্টোবর কোতোয়ালি থানা-পুলিশ কাঠের বাংলো এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য মো. সুমনকে (৩০) গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়।
মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ অক্টোবর আরও দু’টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. ইমরান হোসেনকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
এছাড়া নোয়াখালীর চরজব্বর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গ্ল্যামার ১১৫ সিসি মোটরসাইকেল এবং মিরসরাই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে এসব অভিযানে ১৪টি মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের মধ্যে হোন্ডা হর্নেট, হোন্ডা সিবি, অ্যাপাচি আরটিআর, হিরো হোন্ডা হাঙ্ক ও জিক্সারসহ বিভিন্ন মডেলের বাইক রয়েছে। গ্রেপ্তার ইমরানের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় চুরির অভিযোগে করা একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, চকবাজার থানা-পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেলে বাদীর বোন লাইলাতুল নুসরাত নিপা (৩৬) আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে বাদীর স্ত্রী ও মায়ের কাছ থেকে ৮ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। পরে সেগুলো বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ অক্টোবর চকবাজার থানায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা হয়। ওই দিন দুপুরে নগরের খুলশী থানার বাগঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নিপাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিপা জানান, আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকারগুলো কোতোয়ালি থানার দিদার মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত নোভা জুয়েলার্সের ম্যানেজার শুভ মজুমদারের কাছে বিক্রি করেছেন। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে ওই দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, দোকানের ম্যানেজার দাবি করেন, নিপা ও তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্রে তিনি স্বর্ণালংকারগুলো কিনেছিলেন। পরে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সেগুলো গলিয়ে নতুন অলংকার তৈরি করা হয়। দোকানের ম্যানেজারের উপস্থাপন ও গ্রেফতার নারীর শনাক্তের ভিত্তিতে ৫ ভরি ১ রতি ১ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ টাকার বেশি।




