*বিএনপি বলছেন, জামায়াত সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও তাঁর পিএ আরমান এর নেতৃত্বে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা
*জামায়াত বলছেন, দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচার
নিজস্ব প্রতিবেদক,সাতকানিয়া : সাতকানিয়ায় সেতু উদ্বোধন নিয়ে দুই এমপির দ্বন্দ্বে বিএনপি- জামায়াতের হাতাহাতির ঘটনায় উভয় দল পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) রাতে জামায়েত ইসলামী ও আজ শুক্রবার (০৯অক্টোবর) সকালে বিএনপি আলাদা আলাদা বিবৃতি গণমাধ্যমের নিকট পাঠিয়েছেন।
বিবৃতিতে বিএনপি হাতাহাতির ঘটনাটি চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী ও তাঁর ব্যক্তিগত সরকারি ( পিএ) আরমানের নেতৃত্বে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিযোগ তোলা হয়। অপরদিকে , এ ঘটনায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন দলটি।
বিএনপির পক্ষ থেকে সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন আব্দুল্লাহ এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিন ও সেক্রেটারি তারেক হোসাইন দলকে জড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিবৃতি দেন।
বিএনপির বিবৃতিতে বলা হয়, সংরক্ষিত নারী আসন-২১ এর সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য শামীম আরা বেগম স্বপ্না পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। এ সময় চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী তার দলবল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় তার গাড়িবহরের সামনে এ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের গাড়ির মুখোমুখি হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও তাঁর পিএ আরমানের নেতৃত্বে জামায়াতের নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির নেতা দিদারুল হক বাপ্পি ও পৌরসভা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিএনপি। এ ছাড়াও ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে কালবেলার সাংবাদিক মিনহাজ বাঙালির মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর এবং তাকে হেনস্তা করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সাতকানিয়া লোহাগাড়ায় জামায়াতের লাগামহীন চাঁদাবাজি, মাটি কাটা,বালুমহাল দখল, বিভিন্ন অপরাধ মূলক সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে জনগনকে একপ্রকার জিম্মি করার প্রবনতা থেকে বের হতে পারেনি । এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে লিপ্ত রয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, ঘটনার প্রমাণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে পাওয়া যেতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিন ও সেক্রেটারি তারেক হোসাইন বলেন, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী নারী সংসদ সদস্যকে স্বাগত জানাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়েছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও দলটির সংসদ সদস্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তারা।
বিবৃতিতে জামায়াত নেতারা বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংঘটিত হাতাহাতির ঘটনায় তাদের দলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন, এমন প্রচারণার সত্যতা নেই। প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কোনো রাজনৈতিক দলকে দায়ী করা অনুচিত উল্লেখ করে তারা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা দলকে জড়িয়ে তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান তারা।
তারা আরও বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ হিসেবে প্রচার করে রাজনৈতিক বিরোধের রূপ দেওয়ার চেষ্টা দুঃখজনক। কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের আগেই কোনো রাজনৈতিক দলকে দায়ী করা সমীচীন নয়। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। সংঘাত, সহিংসতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা দলটির ঘোষিত রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দীর্ঘদিনের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সব দলের দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা জরুরি বলেও তারা মন্তব্য করেন।




