আনোয়ারা প্রতিনিধি: আনোয়ারা উপজেলার বটতলী রুস্তম হাট এলাকায় সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল নামের একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় মো. আয়ন নামের এক শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় স্বজনরা শিশুর মরদেহ হাসপাতালের সামনে রেখে বিক্ষোভ করেছে।
এর আগে বুধবার (০৭ অক্টোবর) রাতে শিশুটি মারা যায়।শিশু আয়ন (৮) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় হলেও বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে সে মা কুমকুম আকতার রুম্পার সঙ্গে নানার বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের গুন্ধীপ পাড়া ছাদেক আলী তালুকদারের বাড়িতে থাকত। তার মা কুমকুম আকতার কেইপিজেডের পোশাক শ্রমিক।
নিহত শিশুর মামা সাইফুর রহমান বলেন, বুধবার বিকেলে তার ভাগিনা আয়ন একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হয়। আমরা তাকে সাঙ্গু ট্রমা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। রোগীকে তিন দিন পর হাসপাতালে আনতে বলেন। তাকে বাড়ি নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ভাগিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার অভিযোগ, সাঙ্গু ট্রমা হাসপাতাল কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতালের কর্মচারী দিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে। আমরা বারবার বলার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি। যার কারণে আমার ভাগিনা মারা গেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করবে না ততক্ষণ এ শিশুর আয়নের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নেব না।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটি দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসে, এখানে চিকিৎসা দিয়ে স্বজনরা শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে যায়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে গেলেও শিশুটি মারা যায়। কিন্তু শিশুর অভিভাবকরা রাতে মরদেহ নিয়ে আমাদের হাসপাতাল ভাঙচুর করে। আমাদের টাকাও দাবি করছে, টাকা না দেওয়ায় তারা হাসপাতালের সামনে শিশুর মরদেহ রেখে গেছে।
আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী বলেন, বটতলী রুস্তম হাটে সাঙ্গু ট্রমা নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত শিশুর স্বজন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন নিয়ে আলোচনা চলছে বলে শুনেছি। তবে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ওই হাসপাতাল রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছে। প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি পেয়েছে। ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. জামশেদ গিয়াস উদ্দিনকে প্রধান করে বিবি জয়নাব ও মো. বেলাল হোসেনকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছি। এ কমিটি আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।




