নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরের বহদ্দারহাটে এভারকিউর ভেটেরিনারি হসপিটালে আহত অবস্থায় নিয়ে আসা ৪ ফুট লম্বা বিষধর শঙ্খিনী সাপ ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে। হসপিটালে অপারেশনের পর ৪দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছে সাপটি। সাপটিকে হাসপাতালে আনার পর শরীরের ক্ষতস্থান ছিল স্পষ্ট।লোকাল অ্যানেশথেসিয়া দেওয়ার পর সার্জিক্যাল স্ক্রাব, প্রস্তুত স্ক্যালপেল আইরিস সিজারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি। প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে চলা যুদ্ধের পর সার্জনদের মুখে হাসি।

আজ বুধবার (০৭ অক্টোবর) সাপের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সার্জারিতে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ রাসেল জানান, শঙ্খিনী এখন ভালো আছে।ক্ষতস্থান ধীরে ধীরে শুকিয়ে আসছে। অ্যান্টিবায়োটিক চলছে।আরেকটু সুস্থ হলে বনে অবমুক্ত করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সাপ পরিবেশের জন্য খুবই সহায়ক। সহজে কামড় দেয় না এবং তার প্রধান খাদ্য অন্য বিষধর ও নির্বিষ সাপ। সাপটি শান্ত ও লাজুক স্বভাবের। সাধারণত মানুষ দেখলে পালানোর চেষ্টা করে। মাথা ঝোপ বা মাটির মধ্যে লুকিয়ে রাখে। তখন ভোতা লেজটিকে অনেকে মাথা ভেবে ভুল করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শঙ্খিনী সাপ বিশেষ ভূমিকা রাখে। আইইউসিএন এটিকে বাংলাদেশে বিপন্ন এবং বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

জানা গেছে, শঙ্খিনীকে গত ৩ অক্টোবর রাতে নগরের সরাইপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করেন বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ন্যাচার কনজারভেশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ এর কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী। সাপটিকে লোহার নেটে জড়িয়ে আহত অবস্থায় পেয়েছিলেন তারা। এরপর উদ্ধার করে নিয়ে যান এভারকিউরে।

এদিকে সাপটির এ অবস্থা দেখে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন ভেটেরিনারি সার্জনরা। ৪ অক্টোবর রাত ১০টায় শুরু হওয়া অপারেশন শেষ হয় রাত ১টায়। অপারেশনে সার্জন ডা. মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে ছিলেন ডা. বোরহান উদ্দীন মো. সাজ্জাদ, ডা. জহির উদ্দীন ফয়সাল ও ডা. সাদ্দাম হোসাইন।

ডা. মোহাম্মদ রাসেল বলেন, শঙ্খিনীর মাংসপেশিতে আঘাত লেগে হাড়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এদের কঙ্কাল মূলত একটি সুগঠিত খুলি, মেরুদণ্ড এবং অসংখ্য পাঁজরের হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত। হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃৎ, পাকস্থলী ও কিডনি শরীরের সামনের দিক থেকে পেছনের দিক পর্যন্ত একটির পর একটি লম্বালম্বিভাবে সাজানো থাকে। এদের দুটি কিডনি একটির পেছনে আরেকটি অবস্থান করে। শরীরের একদম শেষ প্রান্তে ক্লোয়াকা থাকে, যা মলমূত্র ত্যাগ এবং প্রজনন উভয় কাজেই ব্যবহৃত হয়। অপারেশন চলাকালে অন্যান্য অঙ্গ স্বাভাবিক ছিল।

প্রাণী বিজ্ঞানীদের মতে, শঙ্খিনী সাপের বিস্তৃতি দেখা যায় ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়। এটি কেউটে সাপের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য হতে পারে ২.১ মিটার (৬ ফুট ১১ ইঞ্চি)। শঙ্খিনীদের সহজেই চিহ্নিত করা যায় তাদের সুপরিচিত কালোর মধ্যে হলুদ ডোরাকাটা দাগ দিয়ে। তবে হলুদের মধ্যে মাথা হতে লেজ পর্যন্ত সোজা কালো ডোরাও দেখে গেছে। শঙ্খিনী/ডোরা কাল কেউটে সাপের দৈর্ঘ্য ১৫০ সেন্টিমিটার, সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ২২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। সাপটি বেশ বড় হলেও লেজের অংশ ছোট ও ভোতা। সদ্য প্রস্ফুটিত অবস্থায় এদের দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার হয়।

জানা গেছে, শঙ্খিনী বর্ষায় ডিম দেয় ও বাচ্চা ফুটায়। স্ত্রী সাপ এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৪-১৪টি ডিম দেয় এবং ডিমের পরিস্ফুটনকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে। ডিম পরিস্ফুটনের জন্য ৬১ দিন সময় লাগে। বাণিজ্যিকভাবেও শঙ্খিনী মূল্যবান। এই সাপের বিষ খুব দামি এবং এর চামড়ার বাজার দর অন্য সাপ থেকে চড়া।

নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরের বহদ্দারহাটে এভারকিউর ভেটেরিনারি হসপিটালে আহত অবস্থায় নিয়ে আসা ৪ ফুট লম্বা বিষধর শঙ্খিনী সাপ ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে। হসপিটালে অপারেশনের পর ৪দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছে সাপটি। সাপটিকে হাসপাতালে আনার পর শরীরের ক্ষতস্থান ছিল স্পষ্ট।লোকাল অ্যানেশথেসিয়া দেওয়ার পর সার্জিক্যাল স্ক্রাব, প্রস্তুত স্ক্যালপেল আইরিস সিজারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি। প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে চলা যুদ্ধের পর সার্জনদের মুখে হাসি।

আজ বুধবার (০৭ অক্টোবর) সাপের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সার্জারিতে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ রাসেল জানান, শঙ্খিনী এখন ভালো আছে।ক্ষতস্থান ধীরে ধীরে শুকিয়ে আসছে। অ্যান্টিবায়োটিক চলছে।আরেকটু সুস্থ হলে বনে অবমুক্ত করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সাপ পরিবেশের জন্য খুবই সহায়ক। সহজে কামড় দেয় না এবং তার প্রধান খাদ্য অন্য বিষধর ও নির্বিষ সাপ। সাপটি শান্ত ও লাজুক স্বভাবের। সাধারণত মানুষ দেখলে পালানোর চেষ্টা করে। মাথা ঝোপ বা মাটির মধ্যে লুকিয়ে রাখে। তখন ভোতা লেজটিকে অনেকে মাথা ভেবে ভুল করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শঙ্খিনী সাপ বিশেষ ভূমিকা রাখে। আইইউসিএন এটিকে বাংলাদেশে বিপন্ন এবং বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

জানা গেছে, শঙ্খিনীকে গত ৩ অক্টোবর রাতে নগরের সরাইপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করেন বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ন্যাচার কনজারভেশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ এর কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী। সাপটিকে লোহার নেটে জড়িয়ে আহত অবস্থায় পেয়েছিলেন তারা। এরপর উদ্ধার করে নিয়ে যান এভারকিউরে।

এদিকে সাপটির এ অবস্থা দেখে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন ভেটেরিনারি সার্জনরা। ৪ অক্টোবর রাত ১০টায় শুরু হওয়া অপারেশন শেষ হয় রাত ১টায়। অপারেশনে সার্জন ডা. মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে ছিলেন ডা. বোরহান উদ্দীন মো. সাজ্জাদ, ডা. জহির উদ্দীন ফয়সাল ও ডা. সাদ্দাম হোসাইন।

ডা. মোহাম্মদ রাসেল বলেন, শঙ্খিনীর মাংসপেশিতে আঘাত লেগে হাড়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এদের কঙ্কাল মূলত একটি সুগঠিত খুলি, মেরুদণ্ড এবং অসংখ্য পাঁজরের হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত। হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃৎ, পাকস্থলী ও কিডনি শরীরের সামনের দিক থেকে পেছনের দিক পর্যন্ত একটির পর একটি লম্বালম্বিভাবে সাজানো থাকে। এদের দুটি কিডনি একটির পেছনে আরেকটি অবস্থান করে। শরীরের একদম শেষ প্রান্তে ক্লোয়াকা থাকে, যা মলমূত্র ত্যাগ এবং প্রজনন উভয় কাজেই ব্যবহৃত হয়। অপারেশন চলাকালে অন্যান্য অঙ্গ স্বাভাবিক ছিল।

প্রাণী বিজ্ঞানীদের মতে, শঙ্খিনী সাপের বিস্তৃতি দেখা যায় ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়। এটি কেউটে সাপের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য হতে পারে ২.১ মিটার (৬ ফুট ১১ ইঞ্চি)। শঙ্খিনীদের সহজেই চিহ্নিত করা যায় তাদের সুপরিচিত কালোর মধ্যে হলুদ ডোরাকাটা দাগ দিয়ে। তবে হলুদের মধ্যে মাথা হতে লেজ পর্যন্ত সোজা কালো ডোরাও দেখে গেছে। শঙ্খিনী/ডোরা কাল কেউটে সাপের দৈর্ঘ্য ১৫০ সেন্টিমিটার, সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ২২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। সাপটি বেশ বড় হলেও লেজের অংশ ছোট ও ভোতা। সদ্য প্রস্ফুটিত অবস্থায় এদের দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার হয়।

জানা গেছে, শঙ্খিনী বর্ষায় ডিম দেয় ও বাচ্চা ফুটায়। স্ত্রী সাপ এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৪-১৪টি ডিম দেয় এবং ডিমের পরিস্ফুটনকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে। ডিম পরিস্ফুটনের জন্য ৬১ দিন সময় লাগে। বাণিজ্যিকভাবেও শঙ্খিনী মূল্যবান। এই সাপের বিষ খুব দামি এবং এর চামড়ার বাজার দর অন্য সাপ থেকে চড়া।