‍দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে ১৫ দিন ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চুয়েটে সৃষ্ট সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ক্যাবের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও মহানগর নেতারা এসব দাবি জানান।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতারা বলেন, চুয়েটের বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই অপসারণ করা হয়েছে। তার জায়গায় অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে অন্তত ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। টানা ১৫ দিনের অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অন্তত তিন মাস পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ক্যাব নেতারা বলেন, আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় রয়েছেন। ফলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ভূমিকার প্রশংসা করে ক্যাব নেতারা বলেন, তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কথা সরাসরি শুনতেন। বিভিন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগের কারণে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বিভিন্ন সুযোগ পাচ্ছিলেন।

তাদের অভিযোগ, চুয়েটের বাইরে থেকে উপাচার্য নিয়োগ, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো কারণ না দেখিয়ে অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে দেওয়া এবং দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থানকালে তাকে না জানিয়ে অব্যাহতি দেওয়া কোনোভাবেই সম্মানজনক প্রক্রিয়া হতে পারে না।

অন্যদিকে, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে এখনো ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

ক্যাব নেতারা বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে হবে। রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির পরিবর্তে জ্ঞানচর্চাকে অগ্রাধিকার দিয়ে চুয়েটের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর এবং যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান।

এর আগে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।

দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে চুয়েটের নিয়মিত অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অন্তত ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

‍দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে ১৫ দিন ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চুয়েটে সৃষ্ট সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ক্যাবের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও মহানগর নেতারা এসব দাবি জানান।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতারা বলেন, চুয়েটের বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই অপসারণ করা হয়েছে। তার জায়গায় অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে অন্তত ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। টানা ১৫ দিনের অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অন্তত তিন মাস পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ক্যাব নেতারা বলেন, আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় রয়েছেন। ফলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ভূমিকার প্রশংসা করে ক্যাব নেতারা বলেন, তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কথা সরাসরি শুনতেন। বিভিন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগের কারণে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বিভিন্ন সুযোগ পাচ্ছিলেন।

তাদের অভিযোগ, চুয়েটের বাইরে থেকে উপাচার্য নিয়োগ, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো কারণ না দেখিয়ে অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে দেওয়া এবং দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থানকালে তাকে না জানিয়ে অব্যাহতি দেওয়া কোনোভাবেই সম্মানজনক প্রক্রিয়া হতে পারে না।

অন্যদিকে, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে এখনো ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

ক্যাব নেতারা বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে হবে। রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির পরিবর্তে জ্ঞানচর্চাকে অগ্রাধিকার দিয়ে চুয়েটের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর এবং যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান।

এর আগে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।

দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে চুয়েটের নিয়মিত অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অন্তত ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।