দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কালিয়াইশে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) দোহাজারী কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানি-মিশ্রিত কালো ফার্নেস অয়েল স্লাজ ড্রেন হয়ে মইল্ল্যা খালে ছড়িয়ে পড়ছে। ওই খাল হয়ে তৈলাক্ত পদার্থ সাঙ্গু নদী এবং আশপাশের শাখা-উপশাখা খালে ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে কৃষিজমি ও মাছের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষিণ পাশের ড্রেন দিয়ে কালো তৈলাক্ত পদার্থ মইল্ল্যা খালে পড়ছে। পরে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির প্রবাহে তা সাঙ্গু নদী এবং আশপাশের শাখা-উপশাখা খালে ছড়িয়ে পড়ছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষিণ পাশের ড্রেন দিয়ে তৈলাক্ত পদার্থ খালের দিকে যাচ্ছে। মইল্ল্যা খালের পানিতে কালো আস্তরণ ও দুর্গন্ধও দেখা যায়। খালের ভেতর ও পাড়ের কিছু উদ্ভিদের ক্ষতির চিত্রও স্থানীয়রা দেখান।

সরেজমিন পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষিণ পাশের ড্রেনটি মইল্ল্যা খালে গিয়ে মিশেছে। পরে মইল্ল্যা খাল গিয়ে পড়েছে সাঙ্গু নদীতে। এ ছাড়া, ডলু খাল ও হাঙর খালসহ বিভিন্ন শাখা-উপশাখা খালের সঙ্গেও এই জলপ্রবাহের সংযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় খালের পানি বাড়লে তৈলাক্ত পদার্থ আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে খালের পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ করে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দূষণের অভিযোগ নিয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে মানববন্ধন করেন মলেয়াবাদ, রসুলাবাদ ও নতুন চাগাচর গ্রামের বাসিন্দারা।

তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য মইল্ল্যা খালে পড়ায় খালের পানি কালো হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে এই পানি কৃষকেরা সেচের কাজে ব্যবহার করেন। ফলে দূষণের অভিযোগে কৃষিকাজ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ খালে মাছ কমে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশে মইল্ল্যা খালের কাছের একটি জমিতে কলার আবাদ করেছেন স্থানীয় কৃষক আব্দুস সাত্তার। তার দাবি, ভারী বর্ষণ ও বন্যার সময় খালের পানি জমিতে ঢোকে। একই সঙ্গে কালচে স্লাজ জমিতে প্রবেশ করায় তার রোপণ করা অধিকাংশ কলাগাছ মারা গেছে। জমির কিছু অংশে এখনো স্লাজের আস্তরণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, পানিতে তৈলাক্ত পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার পর মাছ পাওয়া কমেছে। জাল তুললে হাতে-পায়েও তেল লেগে যায় বলে তারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দোহাজারী কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খালে বর্জ্য ফেলা ‘অনিচ্ছাকৃত’ দাবি করে তিনি বলেন, ওভার প্লান্ট এবং অতিবৃষ্টির ঢলে কিছু পানি-মিশ্রিত ফার্নেস অয়েল স্লাজ খালে পড়ছে সত্য। এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অভিযোগ তদন্তের পর আমরা তাৎক্ষণিক বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেছি।

কালিয়াইশ ইউনিয়নের বাসিন্দা আইয়ুব বলেন, খালে জমে থাকা কালচে তৈলাক্ত বর্জ্য অপসারণ করায় স্থানীয়রা কিছুটা স্বস্তি বোধ করছে। কিন্তু বন্যা হলে পোড়া তেল আবার খালের পানিতে মিশে যেতে পারে। ভবিষ্যতে যেন এরকম দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব রাখা বর্জ্য খাল-নদীতে না মিশে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, অধিদপ্তরের একজন পরিদর্শক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও দূষিত স্থান পরিদর্শন করে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কালিয়াইশে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) দোহাজারী কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানি-মিশ্রিত কালো ফার্নেস অয়েল স্লাজ ড্রেন হয়ে মইল্ল্যা খালে ছড়িয়ে পড়ছে। ওই খাল হয়ে তৈলাক্ত পদার্থ সাঙ্গু নদী এবং আশপাশের শাখা-উপশাখা খালে ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে কৃষিজমি ও মাছের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষিণ পাশের ড্রেন দিয়ে কালো তৈলাক্ত পদার্থ মইল্ল্যা খালে পড়ছে। পরে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির প্রবাহে তা সাঙ্গু নদী এবং আশপাশের শাখা-উপশাখা খালে ছড়িয়ে পড়ছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষিণ পাশের ড্রেন দিয়ে তৈলাক্ত পদার্থ খালের দিকে যাচ্ছে। মইল্ল্যা খালের পানিতে কালো আস্তরণ ও দুর্গন্ধও দেখা যায়। খালের ভেতর ও পাড়ের কিছু উদ্ভিদের ক্ষতির চিত্রও স্থানীয়রা দেখান।

সরেজমিন পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষিণ পাশের ড্রেনটি মইল্ল্যা খালে গিয়ে মিশেছে। পরে মইল্ল্যা খাল গিয়ে পড়েছে সাঙ্গু নদীতে। এ ছাড়া, ডলু খাল ও হাঙর খালসহ বিভিন্ন শাখা-উপশাখা খালের সঙ্গেও এই জলপ্রবাহের সংযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় খালের পানি বাড়লে তৈলাক্ত পদার্থ আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে খালের পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ করে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দূষণের অভিযোগ নিয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে মানববন্ধন করেন মলেয়াবাদ, রসুলাবাদ ও নতুন চাগাচর গ্রামের বাসিন্দারা।

তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য মইল্ল্যা খালে পড়ায় খালের পানি কালো হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে এই পানি কৃষকেরা সেচের কাজে ব্যবহার করেন। ফলে দূষণের অভিযোগে কৃষিকাজ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ খালে মাছ কমে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশে মইল্ল্যা খালের কাছের একটি জমিতে কলার আবাদ করেছেন স্থানীয় কৃষক আব্দুস সাত্তার। তার দাবি, ভারী বর্ষণ ও বন্যার সময় খালের পানি জমিতে ঢোকে। একই সঙ্গে কালচে স্লাজ জমিতে প্রবেশ করায় তার রোপণ করা অধিকাংশ কলাগাছ মারা গেছে। জমির কিছু অংশে এখনো স্লাজের আস্তরণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, পানিতে তৈলাক্ত পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার পর মাছ পাওয়া কমেছে। জাল তুললে হাতে-পায়েও তেল লেগে যায় বলে তারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দোহাজারী কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খালে বর্জ্য ফেলা ‘অনিচ্ছাকৃত’ দাবি করে তিনি বলেন, ওভার প্লান্ট এবং অতিবৃষ্টির ঢলে কিছু পানি-মিশ্রিত ফার্নেস অয়েল স্লাজ খালে পড়ছে সত্য। এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অভিযোগ তদন্তের পর আমরা তাৎক্ষণিক বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেছি।

কালিয়াইশ ইউনিয়নের বাসিন্দা আইয়ুব বলেন, খালে জমে থাকা কালচে তৈলাক্ত বর্জ্য অপসারণ করায় স্থানীয়রা কিছুটা স্বস্তি বোধ করছে। কিন্তু বন্যা হলে পোড়া তেল আবার খালের পানিতে মিশে যেতে পারে। ভবিষ্যতে যেন এরকম দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব রাখা বর্জ্য খাল-নদীতে না মিশে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, অধিদপ্তরের একজন পরিদর্শক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও দূষিত স্থান পরিদর্শন করে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।