
নিজস্ব প্রতিবেদক: আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র নাম, লোগো, বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম, ভুয়া পদ-পদবি দিয়ে আইডি কার্ড ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোহাজারী শাখার ব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল হোসেন। এ চক্রের মূলহোতা মো. রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তি বলে জানান তিনি।
রেজাউল করিম নামের ব্যক্তিটি পৃথক পৃথক ভিজিটিং কার্ডে যেসব ঠিকানা, হোয়াটসঅ্যাপ, ওয়েব, ফোন নম্বর ব্যবহার করে ব্যাংকে চাকরি দেওয়া, পার্সেল ডেলিভারি, বিভিন্ন লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে।
ম্যানেজার ইসমাইল হোসেন জানান, এই প্রতারণা চক্রের মূলহোতা মো. রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ব্যাংকের হেড অফিসের এইচআরডি বিভাগের ‘প্রিন্সিপাল অফিসার’ পরিচয় দিয়ে দুইটি আকর্ষণীয় ভিজিটিং কার্ড (০১৭৪৮-১৮৪৪৮৫, ০১৮৮০-৪৪৭২৯) যত্রতত্র ব্যবহার করে আসছে। অথচ ব্যাংকের দাপ্তরিক অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, ব্যাংক বা এর প্রধান কার্যালয়ে রেজাউল করিম নামের কোনো কর্মকর্তার অস্তিত্ব নেই।
ব্যাংকে লোভনীয় চাকরি দেওয়ার নাম করে বেকার, তরুণ ও সাধারণ মানুষের নিকট থেকে বিভিন্ন অঙ্কের নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ই তাদের প্রধান পেশা। ইতিপূর্বে উল্লেখিত ব্যক্তি প্রতারণা করতে গিয়ে রেজাউল করিম বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের জনরোষের মুখে পড়ে মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাথে এই প্রতারক চক্রের কোনো ধরনের দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি। এ ধরনের অভিনব প্রতারণার হাত থেকে সর্বসাধারণকে সচেতন ও সতর্ক থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে রেজাউল করিমের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের হেড অফিসে এইচআর পদে কর্মরত রয়েছেন। তিনি কারো সাথে প্রতারণা করেন নাই। দোহাজারী শাখায় পার্সেল পাঠানোর ব্যাপারে বলেছেন, এটা ভুলবশত সেখানে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ম্যানেজার না বুঝে থানায় অভিযোগ করেছেন। তার ভিজিটিং কার্ডে বিভিন্ন তথ্য ভুল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাহলে কি করবেন।
এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম সিকদার অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা পেলে আইনগত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।