
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটের কারণে জনজীবন অচল হয়ে পড়ছে। রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে মিলছে মাত্র ২০০–৩০০ টাকার গ্যাস। এতে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাসের সংখ্যা কমে গেছে। যানবাহন সংকটে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এই সুযোগে নগরীতে গণপরিবহনে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নগরীর অসংখ্য বাসাবাড়িতে দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় রান্না বন্ধ। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছে।
সোমবার নগরের অক্সিজেন, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, কর্ণফুলী, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পে গভীর রাত থেকেই গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেক চালক সকাল কিংবা দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না। শুধু আবাসিক নয়, ছোট ব্যবসা ও শিল্পকারখানার কার্যক্রমও গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘অক্সিজেনের একটি ফিলিং স্টেশনে সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে সকালে মাত্র ৩০০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এই গ্যাস দিয়ে গাড়ি চালিয়ে মালিকের জমাও উঠানো যাবে না।’
জানা যায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। বর্তমানে বিকল্প টার্মিনাল থেকে সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে রোববার সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১৯ কোটি ঘনফুট। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি খাতে।
গ্যাস সংকটের কারণে সড়কে অর্ধেকেরও বেশি সিএনজিচালিত যানবাহন নামতে পারেনি বলে দাবি পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। ফলে সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।
ষোলশহর ২ নম্বর গেইট থেকে নিউমার্কেটগামী যাত্রী, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেও কোনো খালি সিএনজি অটোরিকশা পাইনি। শেষ পর্যন্ত কিছুদূর টেম্পুতে, কিছুদূর রিকশায় করে এসেছি। অফিসে দেরি হয়ে গেছে।’
আগ্রাবাদ মোড়ে কথা হয় শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাকিলের সঙ্গে। বাসে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় জাকির হোসের সড়কের এমইএস কলেজে যাওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেন তিনি।
গ্যাস সংকটের ধাক্কা পড়েছে আবাসিক এলাকাতেও। দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। কেউ গভীর রাতে গ্যাস এলে রান্না করে রাখছেন, আবার কেউ হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। বহদ্দারহাট খতিবের হাট এলাকার বাসিন্দা আফরোজা স্বপ্না বলেন, ‘দুই দিন ধরে বাসায় গ্যাস নেই। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।’
হালিশহর বড়পোল এলাকার রেস্টুরেন্টের কর্মী বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে বাসাবাড়িতে রান্না কম হচ্ছে, তাতে আমাদের দোকানে বিক্রি বেড়ে গেছে।’

