নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আমরা উদযাপন করেছি। কিন্ত দেশের মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছে না। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্ত মুক্তি পাইনি। দেশের মানুষ চেয়েছিল, এখনও চায়। জাতীয় পার্টি স্বাধীনতার মূল চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষকে স্বাধীনতার প্রকৃত সাদ দিতেই রাজনীতি করছে। আমরা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে দেশের মানুষের আশা আকাঙ্খা পূরন করবো, ইনশআল্লাহ। আজ শনিবার (২৬ র্মাচ) বিকেলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর উপদেষ্টা ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহবায়ক শেরীফা কাদের এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ২৬ র্মাচ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গৌরবোজ্জল ও তাৎর্পযর্পূণ এই দিনে আমি দেশবাসীকে প্রাণঢালা অভনিন্দন জানাচ্ছি। একই সাথে বিশ্বের বিভিন্নি প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের প্রতি শুভচ্ছো ও ভালোবাসা জানাচ্ছি। মহান স্বাধীনতা দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি বাঙালী জাতরি পিতা, মহান মুক্তযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যিনি বাঙালী জাতির মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হয়ে সারাটি জীবন নিবেদিত ছিলেন বাঙালীর স্বাধীকার, স্বাধীনতা ও র্আথ-সামাজকি উন্নয়নে।
বিনম্র চিত্তে পরম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করছি ৩০ লাখ বীর শহীদদের, মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎর্সগ করে যারা আমাদের লাল-সবুজের পতাকা উপহার দিয়েছেন। সশ্রদ্ধ সালাম স্টেি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যারা জীবনবাজী রেখে লড়াই করেছেন আমাদরে স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য।
 বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেন, পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসইেন মুহম্মদ এরশাদকে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীন বাংলদেশের আধুনিকায়নে যার অপরিসীম অবদান অক্ষয় হয়ে থাকবে। মুক্তিদ্ধোদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান ঘোষণা সহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে অসামান্য অবদান রেখেছেন তিনি।
মহান স্বাধীনতা বাঙালীর শ্রেষ্ঠ র্অজন। একাত্তরের গৌরবোজ্জল উত্তাল দিনগুলো আমাদের আজীবন পথ দেখাবে। মুক্তিযুদ্ধ আজীবন সুখী ও সমৃদ্ধশালী নতুন বাংলাদেশ গড়তে অনুপ্ররেণা যোগাবে। আসুন এই শুভক্ষণে আগামী প্রজন্মের সুখময় ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে ক্ষুধা, দারিদ্র এবং দূর্নীতিমুক্ত পল্লীবন্ধু হুসইেন মুহম্মদ এরশাদ-এর স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়তে শপথ গ্রহণ করি।
তিনি বলেন, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু দেশের মানুষ যে মুক্তি লাভের জন্য স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়েছিল, সে মুক্তি আজও মিলেনি। দেশের মানুষ চেয়েছিল বৈষম্য, বঞ্চনা থেকে মুক্তি। তারা চেয়েছিল শোষনমুক্ত একটি দেশ। তারা চেয়েছিল তাদের মালিকানা, তাদের জন্য একটি দেশ, বাংলাদেশ। বৈষম্য, শোষন আর বঞ্চনার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধেই প্রথমে স্বাধীকার তারপর স্বাধীনতা সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫১ বছর পর হলেও দেশের মানুষ বৈষম্য, শোষন ও বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি পায়নি। স্বাধীনতা লাভের আগে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্থানীরা আমাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছিল। বিভিন্নভাবে আমাদের বঞ্চনা করা হতো।
তিনি আরো বলেন, আমরা ছিলাম শোষন, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার। এখন বিশেষ করে ৯১এর পর থেকে সরকার, সরকারী দলের মানুষও সাধারন মানুষের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরন করছে। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হলে সরকারী চাকুরী মিলে না। সরকার দলের জার্সি না পরলে ব্যবসা করা কঠিন। নানাভাবে দুর্নীতি, বঞ্চনা, শোষন-নীপিড়নে সাধারন মানুষের জীবন অতিষ্ট। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের মানুষেরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। ফুটপাতের দোকানীরা থেকে সকল স্থরের ব্যবসায়ী ও মানুষ ক্ষমতাসীনদের চাঁদা না দিয়ে কিছু করতে পারছে না।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে পশ্চিম পাকিস্থান আমাদের দেশের সম্পদ লুট করে সে দেশে নিয়ে যেত। এখন বাংলাদেশের সম্পদ লুন্ঠন করে বিভিন্ন দেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে এবং প্রতিদিন তা বাড়ছে বলে বিদেশি সংস্থার জরিপে জানা যাচ্ছে। স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল দেশের মালিক জনগন তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষমতার মালিকানায় থাকবে। অর্থাৎ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। ১৯৯১ সালের পর থেকে যে দুটি দল ক্ষমতায় ছিল তারা সংবিধান কাটছাট করে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে একটি একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছে। একনায়কতন্ত্র স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী। বর্তমানে দেশে এখন এক ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রের ক্ষমতা।
তিনি বলেন, ৯১-এর পর থেকে দেখা যাচ্ছে, সরকারদলীয় প্রধান সরকার হচ্ছেন বা নির্বাহী বিভাগের প্রধান হচ্ছেন। সংবিধানের কিছু বিধানের কারণে নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতার স্থল আইনসভাও তার সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রনে। আবার কিছু পরস্পর বিরোধী সংবিধানের বিধানাবলীর সুযোগে বিচার বিভাগ প্রায় সবটাই বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের প্রধানের নিয়ন্ত্রনের আওতাভূক্ত। এক কথায় রাষ্ট্রের ক্ষমতার সকল স্থম্ভসমূহ যারা পরস্পরের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করার কথা, সেগুলি একক ব্যক্তি বা নির্বাহী প্রধানের নিয়ন্ত্রণে। সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে এমন বাস্তবতায় কোনভাবেই গনতন্ত্রের চর্চা সম্ভব নয়।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, যত বাধাই আসুক আমরা জনগনের স্বার্থ রক্ষায় রাজপথে থাকবো। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কবলে দেশের মানুষ অস্থির হয়ে পড়েছে। দ্রব্যমূল্য উর্ধগতির কারণে দেশের মানুষের মধ্যে হাহাকার উঠেছে। দেশে ঘুষের দরও বেড়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, আসল মুক্তিযোদ্ধারা হারিয়ে যাচ্ছে আর ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেছেন, যে লক্ষ্যে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছি সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছি তারাই এখন ব্যাংকের মালিক হচ্ছে, তারাই এখন গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির মালিক। আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা শুধু ভাতা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ২২ পরিবারের বিপরীতে এখন ২২ হাজার পরিবার সৃষ্টি হয়েছে। ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য অনেক বেড়ে গেছে।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। যে আকাংখা নিয়ে দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা পল্লীবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে রাজনীতি করছি।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কো-চেয়ারম্যান-কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়া।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পাটির আহ্বায়ক শেরীফা কাদের এমপির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আহমেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য- সাহিদুর রহমান টেপা, শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ফকরুল ইমাম এমপি, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এডভোকেট মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নাজমা আক্তার এমপি, আলমগীর সিকদার লোটন, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক, উপদেষ্টা- রওশন আরা মান্নান এমপি, ড. নুরুল আজহার শামীম, মনিরুল ইসলাম মিলন, এম এ কুদ্দুস খান, হাজী আবু বকর, হেনা খান পন্নী, এডভোকেট লাকী বেগম, মাহবুবুর রহমান লিপটন, মমতাজ উদ্দিন, ভাইস-চেয়ারম্যান-শেখ আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, সুলতান আহমেদ সেলিম, নূরুন্নাহার বেগম, শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী, তারেক এ আদেল, আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, যুগ্ম মহাসচিব- গোলাম মোহাম্মদ রাজু, শামসুল হক, ফখরুল আহসান শাহজাদা, এডভোকেট আবদুল হামিদ ভাসানী, ইকবাল হোসেন তাপস, মোঃ বেলাল হোসেন, আমির হোসেন ভূঁইয়া, একেএম আশরাফুজ্জামান খান, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য- হুমায়ুন খান, মাহমুদা রহমান মুন্নি, এবিএম লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, সৈয়দ ইফতেকার আহসান হাসান, মাখন সরকার, কাজী আবুল খায়ের, হাজী মোহাম্মদ ফারুক, সুলতান মাহমুদ, এমএ রাজ্জাক খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূঁইয়া, মিজানুর রহমান মিরু, গোলাম মোস্তফা, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, এডভোকেট খন্দকার ফায়কুজ্জামান ফিরোজ, যুগ্ম সম্পাদক-মোঃ হেলাল উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার গালিব, তিতাস মোস্তফা, জাকির হোসেন মৃধা, শরফুদ্দিন শিপু, আক্তার হোসেন দেওয়ান, এসএম সোবহান, মামুনুর রহিম সুমন, মাশুকুর রহমান, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, শাহজাহান কবির, শাহনাজ পারভীন, শহিদ হোসেন সেন্টু, দ্বীন ইসলাম শেখ, ড: মোঃ আবদুল্লাহ আল ফাত্তাহ, কেন্দ্রীয় নেতা- মনিরুজ্জামান টিটু, নাজমুল খান, জিএম বাবু, শেখ হুমায়ুন কবির শাওন, ওহিদুজ্জামান, সরোয়ার হোসেন, ঝোটন দত্ত, আবু সাদেক বাদল, তাসলিমা আকবর রুনা, জেসমিন নূর প্রিয়াংকা, মোতাহার হোসেন, মোক্তার হোসেন, ফজলে এলাহি সোহাগ, মুহিত হাওলাদার, আলহাজ্ব আব্দুল বাতেন, মেহেদী হাসান শিপন, জাহিদ হাসান, সোলায়মান সামি, মিনি খান, জিয়াউর রহমান বিপুল, আলমগীর হোসেন, আমিনা হাসান, এম মহিবুর রহমান, মিজানুর রহমান, লোকমান ভূঁইয়া রাজু, মেহেদী হাসান শিপন, ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, নাহার ইতি, মিথিলা রোয়াজা, ইলোরা ইয়াসমিন, রাকিন আহমেদ, রাজু আহমেদ, সৈয়দা মেহেরুন্নেসা হিয়া, সীমানা আমীর, এডভোকেট নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।
আলোচনা সভার শেষে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহবায়ক শেরিফা কাদের এমপির নির্দেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সদস্যবৃন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আমরা উদযাপন করেছি। কিন্ত দেশের মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছে না। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্ত মুক্তি পাইনি। দেশের মানুষ চেয়েছিল, এখনও চায়। জাতীয় পার্টি স্বাধীনতার মূল চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষকে স্বাধীনতার প্রকৃত সাদ দিতেই রাজনীতি করছে। আমরা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে দেশের মানুষের আশা আকাঙ্খা পূরন করবো, ইনশআল্লাহ। আজ শনিবার (২৬ র্মাচ) বিকেলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর উপদেষ্টা ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহবায়ক শেরীফা কাদের এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ২৬ র্মাচ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গৌরবোজ্জল ও তাৎর্পযর্পূণ এই দিনে আমি দেশবাসীকে প্রাণঢালা অভনিন্দন জানাচ্ছি। একই সাথে বিশ্বের বিভিন্নি প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের প্রতি শুভচ্ছো ও ভালোবাসা জানাচ্ছি। মহান স্বাধীনতা দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি বাঙালী জাতরি পিতা, মহান মুক্তযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যিনি বাঙালী জাতির মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হয়ে সারাটি জীবন নিবেদিত ছিলেন বাঙালীর স্বাধীকার, স্বাধীনতা ও র্আথ-সামাজকি উন্নয়নে।
বিনম্র চিত্তে পরম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করছি ৩০ লাখ বীর শহীদদের, মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎর্সগ করে যারা আমাদের লাল-সবুজের পতাকা উপহার দিয়েছেন। সশ্রদ্ধ সালাম স্টেি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যারা জীবনবাজী রেখে লড়াই করেছেন আমাদরে স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য।
 বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেন, পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসইেন মুহম্মদ এরশাদকে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীন বাংলদেশের আধুনিকায়নে যার অপরিসীম অবদান অক্ষয় হয়ে থাকবে। মুক্তিদ্ধোদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান ঘোষণা সহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে অসামান্য অবদান রেখেছেন তিনি।
মহান স্বাধীনতা বাঙালীর শ্রেষ্ঠ র্অজন। একাত্তরের গৌরবোজ্জল উত্তাল দিনগুলো আমাদের আজীবন পথ দেখাবে। মুক্তিযুদ্ধ আজীবন সুখী ও সমৃদ্ধশালী নতুন বাংলাদেশ গড়তে অনুপ্ররেণা যোগাবে। আসুন এই শুভক্ষণে আগামী প্রজন্মের সুখময় ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে ক্ষুধা, দারিদ্র এবং দূর্নীতিমুক্ত পল্লীবন্ধু হুসইেন মুহম্মদ এরশাদ-এর স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়তে শপথ গ্রহণ করি।
তিনি বলেন, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু দেশের মানুষ যে মুক্তি লাভের জন্য স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়েছিল, সে মুক্তি আজও মিলেনি। দেশের মানুষ চেয়েছিল বৈষম্য, বঞ্চনা থেকে মুক্তি। তারা চেয়েছিল শোষনমুক্ত একটি দেশ। তারা চেয়েছিল তাদের মালিকানা, তাদের জন্য একটি দেশ, বাংলাদেশ। বৈষম্য, শোষন আর বঞ্চনার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধেই প্রথমে স্বাধীকার তারপর স্বাধীনতা সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫১ বছর পর হলেও দেশের মানুষ বৈষম্য, শোষন ও বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি পায়নি। স্বাধীনতা লাভের আগে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্থানীরা আমাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছিল। বিভিন্নভাবে আমাদের বঞ্চনা করা হতো।
তিনি আরো বলেন, আমরা ছিলাম শোষন, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার। এখন বিশেষ করে ৯১এর পর থেকে সরকার, সরকারী দলের মানুষও সাধারন মানুষের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরন করছে। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হলে সরকারী চাকুরী মিলে না। সরকার দলের জার্সি না পরলে ব্যবসা করা কঠিন। নানাভাবে দুর্নীতি, বঞ্চনা, শোষন-নীপিড়নে সাধারন মানুষের জীবন অতিষ্ট। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের মানুষেরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। ফুটপাতের দোকানীরা থেকে সকল স্থরের ব্যবসায়ী ও মানুষ ক্ষমতাসীনদের চাঁদা না দিয়ে কিছু করতে পারছে না।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে পশ্চিম পাকিস্থান আমাদের দেশের সম্পদ লুট করে সে দেশে নিয়ে যেত। এখন বাংলাদেশের সম্পদ লুন্ঠন করে বিভিন্ন দেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে এবং প্রতিদিন তা বাড়ছে বলে বিদেশি সংস্থার জরিপে জানা যাচ্ছে। স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল দেশের মালিক জনগন তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষমতার মালিকানায় থাকবে। অর্থাৎ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। ১৯৯১ সালের পর থেকে যে দুটি দল ক্ষমতায় ছিল তারা সংবিধান কাটছাট করে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে একটি একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছে। একনায়কতন্ত্র স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী। বর্তমানে দেশে এখন এক ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রের ক্ষমতা।
তিনি বলেন, ৯১-এর পর থেকে দেখা যাচ্ছে, সরকারদলীয় প্রধান সরকার হচ্ছেন বা নির্বাহী বিভাগের প্রধান হচ্ছেন। সংবিধানের কিছু বিধানের কারণে নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতার স্থল আইনসভাও তার সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রনে। আবার কিছু পরস্পর বিরোধী সংবিধানের বিধানাবলীর সুযোগে বিচার বিভাগ প্রায় সবটাই বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের প্রধানের নিয়ন্ত্রনের আওতাভূক্ত। এক কথায় রাষ্ট্রের ক্ষমতার সকল স্থম্ভসমূহ যারা পরস্পরের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করার কথা, সেগুলি একক ব্যক্তি বা নির্বাহী প্রধানের নিয়ন্ত্রণে। সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে এমন বাস্তবতায় কোনভাবেই গনতন্ত্রের চর্চা সম্ভব নয়।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, যত বাধাই আসুক আমরা জনগনের স্বার্থ রক্ষায় রাজপথে থাকবো। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কবলে দেশের মানুষ অস্থির হয়ে পড়েছে। দ্রব্যমূল্য উর্ধগতির কারণে দেশের মানুষের মধ্যে হাহাকার উঠেছে। দেশে ঘুষের দরও বেড়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, আসল মুক্তিযোদ্ধারা হারিয়ে যাচ্ছে আর ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেছেন, যে লক্ষ্যে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছি সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছি তারাই এখন ব্যাংকের মালিক হচ্ছে, তারাই এখন গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির মালিক। আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা শুধু ভাতা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ২২ পরিবারের বিপরীতে এখন ২২ হাজার পরিবার সৃষ্টি হয়েছে। ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য অনেক বেড়ে গেছে।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। যে আকাংখা নিয়ে দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা পল্লীবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে রাজনীতি করছি।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কো-চেয়ারম্যান-কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়া।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পাটির আহ্বায়ক শেরীফা কাদের এমপির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আহমেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য- সাহিদুর রহমান টেপা, শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ফকরুল ইমাম এমপি, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এডভোকেট মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নাজমা আক্তার এমপি, আলমগীর সিকদার লোটন, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক, উপদেষ্টা- রওশন আরা মান্নান এমপি, ড. নুরুল আজহার শামীম, মনিরুল ইসলাম মিলন, এম এ কুদ্দুস খান, হাজী আবু বকর, হেনা খান পন্নী, এডভোকেট লাকী বেগম, মাহবুবুর রহমান লিপটন, মমতাজ উদ্দিন, ভাইস-চেয়ারম্যান-শেখ আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, সুলতান আহমেদ সেলিম, নূরুন্নাহার বেগম, শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী, তারেক এ আদেল, আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, যুগ্ম মহাসচিব- গোলাম মোহাম্মদ রাজু, শামসুল হক, ফখরুল আহসান শাহজাদা, এডভোকেট আবদুল হামিদ ভাসানী, ইকবাল হোসেন তাপস, মোঃ বেলাল হোসেন, আমির হোসেন ভূঁইয়া, একেএম আশরাফুজ্জামান খান, সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য- হুমায়ুন খান, মাহমুদা রহমান মুন্নি, এবিএম লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, সৈয়দ ইফতেকার আহসান হাসান, মাখন সরকার, কাজী আবুল খায়ের, হাজী মোহাম্মদ ফারুক, সুলতান মাহমুদ, এমএ রাজ্জাক খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূঁইয়া, মিজানুর রহমান মিরু, গোলাম মোস্তফা, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, এডভোকেট খন্দকার ফায়কুজ্জামান ফিরোজ, যুগ্ম সম্পাদক-মোঃ হেলাল উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার গালিব, তিতাস মোস্তফা, জাকির হোসেন মৃধা, শরফুদ্দিন শিপু, আক্তার হোসেন দেওয়ান, এসএম সোবহান, মামুনুর রহিম সুমন, মাশুকুর রহমান, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, শাহজাহান কবির, শাহনাজ পারভীন, শহিদ হোসেন সেন্টু, দ্বীন ইসলাম শেখ, ড: মোঃ আবদুল্লাহ আল ফাত্তাহ, কেন্দ্রীয় নেতা- মনিরুজ্জামান টিটু, নাজমুল খান, জিএম বাবু, শেখ হুমায়ুন কবির শাওন, ওহিদুজ্জামান, সরোয়ার হোসেন, ঝোটন দত্ত, আবু সাদেক বাদল, তাসলিমা আকবর রুনা, জেসমিন নূর প্রিয়াংকা, মোতাহার হোসেন, মোক্তার হোসেন, ফজলে এলাহি সোহাগ, মুহিত হাওলাদার, আলহাজ্ব আব্দুল বাতেন, মেহেদী হাসান শিপন, জাহিদ হাসান, সোলায়মান সামি, মিনি খান, জিয়াউর রহমান বিপুল, আলমগীর হোসেন, আমিনা হাসান, এম মহিবুর রহমান, মিজানুর রহমান, লোকমান ভূঁইয়া রাজু, মেহেদী হাসান শিপন, ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, নাহার ইতি, মিথিলা রোয়াজা, ইলোরা ইয়াসমিন, রাকিন আহমেদ, রাজু আহমেদ, সৈয়দা মেহেরুন্নেসা হিয়া, সীমানা আমীর, এডভোকেট নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।
আলোচনা সভার শেষে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহবায়ক শেরিফা কাদের এমপির নির্দেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সদস্যবৃন্দ।