মার্কিন কর্মকর্তা ও কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার তৎপরতা জোরদার করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার লক্ষ্যে ইরানের ষড়যন্ত্রের তৎপরতা এখন ‘উচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি মেমোতে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, যা গত ২৩ অক্টোবর ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠিয়েছিলেন।
ক্লেটন তার মেমোতে উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা ইরান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অনুলিপি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফকেও প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশন থেকে জরুরি নয় এমন দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি মিশন থেকে পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনেরও বেশি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে, যার মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও ইসরাইল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দূতাবাসগুলোতে জনবল সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনার অংশ। হুতিদের হামলার হুমকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানের সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই এই ‘রেস্ট্রিকটেড অপারেশনস স্ট্যাটাস’ বা সীমিত কার্যক্রমের মর্যাদা ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধ আট মাস পূর্ণ করে নবম মাসে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বৃদ্ধির ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।




