জীবনযাত্রার ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য এবং সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই সামাজিক অস্থিরতায় দেশজুড়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং দেশজুড়ে প্রায় ১,৮০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানী প্যারিসসহ সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শহর পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে এক মাস ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষোভ যুক্ত হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির কয়েক ডজন শহরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। অধিকাংশ জায়গায় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলেও বেশ কিছু সহিংস গোষ্ঠী সরকারি ভবন, বিলাসবহুল দোকান, সুপারমার্কেট এবং পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। অনেক ভবনের দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকা হয় এবং বেশ কিছু যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়।

প্যারিসে বিক্ষোভ চলাকালে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। কেবল রাজধানী প্যারিস ও এর আশপাশের এলাকা থেকেই ৮৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, এটি সেখানে এক দিনে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের একটি রেকর্ড। ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলাকালে কয়েক শ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ নিশ্চিত করেছেন।

সহিংসতার বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে একাধিক ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক স্থাপনায়। দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লিমোজ শহরে ১৪৩ বছরের পুরোনো সিটি হলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার ফলে ভবনটির একটি বড় অংশ ভস্মীভূত হয়। শহরটির মেয়র গিয়োম গেরাঁ ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড বলে আখ্যা দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহ্যবাহী ভবনটি সংস্কারে ১০ লাখ ইউরো অর্থ সহায়তা না পেলে তিনি পদত্যাগ করার হুমকিও দিয়েছেন।

একইভাবে উত্তরাঞ্চলের লিল থেকে দক্ষিণ ফ্রান্সে অবস্থিত মার্সেই, পূর্বাঞ্চলের স্ত্রাসবুর্গ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের বোর্দো পর্যন্ত একাধিক শহরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। বোর্দো শহরে মুখ ঢাকা একটি উপদল স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তার বাসভবনে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে। বোর্দোর মেয়র থমাস কাজনাভ জানান, সেখানে প্রায় ১০০টি দোকানে লুটপাট চালিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। অন্যদিকে, মার্সেইয়ের মেয়র সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

খুচরা বিক্রেতা বিশাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্যারিফোরের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, দেশজুড়ে তাদের অন্তত ৫০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২০টি দোকানে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কয়েক কোটি ইউরোর অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেসক্যুর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পূর্ণ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ফ্রান্সের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই অস্থিরতা নতুন এক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে সাধারণ জনগণের ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ ও নৈরাজ্য প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে شدید চাপের মুখে ফেলেছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সংঘটিত সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রকে দায়ী করেছেন। বিদ্যমান সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ স্থানীয় সময় রোববার রাত ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

জীবনযাত্রার ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য এবং সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই সামাজিক অস্থিরতায় দেশজুড়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং দেশজুড়ে প্রায় ১,৮০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানী প্যারিসসহ সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শহর পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে এক মাস ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষোভ যুক্ত হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির কয়েক ডজন শহরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। অধিকাংশ জায়গায় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলেও বেশ কিছু সহিংস গোষ্ঠী সরকারি ভবন, বিলাসবহুল দোকান, সুপারমার্কেট এবং পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। অনেক ভবনের দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকা হয় এবং বেশ কিছু যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়।

প্যারিসে বিক্ষোভ চলাকালে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। কেবল রাজধানী প্যারিস ও এর আশপাশের এলাকা থেকেই ৮৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, এটি সেখানে এক দিনে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের একটি রেকর্ড। ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলাকালে কয়েক শ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ নিশ্চিত করেছেন।

সহিংসতার বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে একাধিক ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক স্থাপনায়। দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লিমোজ শহরে ১৪৩ বছরের পুরোনো সিটি হলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার ফলে ভবনটির একটি বড় অংশ ভস্মীভূত হয়। শহরটির মেয়র গিয়োম গেরাঁ ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড বলে আখ্যা দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহ্যবাহী ভবনটি সংস্কারে ১০ লাখ ইউরো অর্থ সহায়তা না পেলে তিনি পদত্যাগ করার হুমকিও দিয়েছেন।

একইভাবে উত্তরাঞ্চলের লিল থেকে দক্ষিণ ফ্রান্সে অবস্থিত মার্সেই, পূর্বাঞ্চলের স্ত্রাসবুর্গ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের বোর্দো পর্যন্ত একাধিক শহরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। বোর্দো শহরে মুখ ঢাকা একটি উপদল স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তার বাসভবনে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে। বোর্দোর মেয়র থমাস কাজনাভ জানান, সেখানে প্রায় ১০০টি দোকানে লুটপাট চালিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। অন্যদিকে, মার্সেইয়ের মেয়র সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

খুচরা বিক্রেতা বিশাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্যারিফোরের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, দেশজুড়ে তাদের অন্তত ৫০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২০টি দোকানে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কয়েক কোটি ইউরোর অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেসক্যুর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পূর্ণ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ফ্রান্সের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই অস্থিরতা নতুন এক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে সাধারণ জনগণের ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ ও নৈরাজ্য প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে شدید চাপের মুখে ফেলেছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সংঘটিত সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রকে দায়ী করেছেন। বিদ্যমান সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ স্থানীয় সময় রোববার রাত ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।