রাজধানীর উত্তরা-পশ্চিম থানার এক শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথি আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা-পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া গত ৩১ আগস্ট ঢাকার আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিষয়টি সম্প্রতি জানা যায় এবং আগামীতে বিচার কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য মামলাটি গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা অপর দুই আসামি হলেন সাফিকুরের বাসার দুই বয়স্ক গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগম। এর আগে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা, পেশায় হোটেল কর্মচারী গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর ওই রাতেই চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি পদ থেকে চাকরি হারান সাফিকুর রহমান।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাফিকুর-বীথি দম্পতির সন্তানকে দেখাশোনার জন্য ১১ বছরের ওই শিশুটিকে গৃহকর্মী হিসেবে আনা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই কোনো কারণ ছাড়াই শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতে শুরু করেন গৃহকর্ত্রী বীথি আক্তার। পরে তার দেখাদেখি ও নির্দেশে অন্য দুই গৃহকর্মী রুপালী ও সুফিয়াও শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো শুরু করেন। শিশুটিকে দিয়ে রাতদিন কাজ করানো হলেও পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না, বরং দিনের পর দিন বাথরুমে আটকে রাখা হতো। বাথরুম থেকে বাঁচতে শিশুটি বাথরুমের পানি ও পেস্ট খেয়ে জীবন ধারণ করত।

অভিযোগপত্রে নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে বলা হয়, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বীথি আক্তার ও অন্য দুই গৃহকর্মী রান্নার কাজে ব্যবহৃত লোহার খুন্তি আগুনে গরম করে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিতেন এবং বাঁশের কঞ্চি ও লাঠি দিয়ে পেটাতেন। আর এই পুরো নির্যাতন চোখের সামনে দেখলেও কোনো বাধা না দিয়ে দেখেও না দেখার ভান করে থাকতেন বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমান। তাই স্ত্রী বীথির সংঘটিত এই গুরুতর অপরাধ ও নির্যাতনের দায় সাফিকুর রহমান কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না বলে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন।

মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আসামি বীথি আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি শিশুটিকে বিভিন্ন সময়ে মারধর করার কথা স্বীকার করেন। অপর আসামি সুফিয়া বেগমও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, শিশুটি তার বিরুদ্ধে নারিকেল তেল ও সাবান চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলায় তিনি তাকে দুই দিন মারধর করেছিলেন। এছাড়া এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের কাছে ভুক্তভোগী শিশুটি নিজের জবানবন্দি দেয়। শিশুটি জানায়, উত্তপ্ত খুন্তির ছ্যাঁকা, মরিচের গুঁড়া চোখে চেপে ধরা, লাঠি দিয়ে পেটানো এবং শিল-পুতা দিয়ে আঘাত করে তার একটি দাঁত ভেঙে ফেলার মতো নৃশংস অত্যাচার চালানো হয়েছিল। তীব্র শীতে পোশাক না দিয়ে ভিজে বাথরুমে আটকে রাখার কারণে তার পায়ে পচন ধরে যায়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর শিশুটির বিয়ের খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত বছরের জুন মাসে তাকে ওই বাসায় এনে দেন। বাবা গোলাম মোস্তফা সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মেয়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এর পর থেকে আর পরিবারকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। দেখা করতে দেওয়া হলেও বড় পোশাক পরিয়ে বীথি ও বুয়ারা পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। পরবর্তীতে ৩১ জানুয়ারি সাফিকুরের স্ত্রী ফোন করে মেয়েটির অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। বাবা গিয়ে মারাত্মক আহত অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

রাজধানীর উত্তরা-পশ্চিম থানার এক শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথি আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা-পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া গত ৩১ আগস্ট ঢাকার আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিষয়টি সম্প্রতি জানা যায় এবং আগামীতে বিচার কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য মামলাটি গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা অপর দুই আসামি হলেন সাফিকুরের বাসার দুই বয়স্ক গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগম। এর আগে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা, পেশায় হোটেল কর্মচারী গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর ওই রাতেই চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি পদ থেকে চাকরি হারান সাফিকুর রহমান।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাফিকুর-বীথি দম্পতির সন্তানকে দেখাশোনার জন্য ১১ বছরের ওই শিশুটিকে গৃহকর্মী হিসেবে আনা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই কোনো কারণ ছাড়াই শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতে শুরু করেন গৃহকর্ত্রী বীথি আক্তার। পরে তার দেখাদেখি ও নির্দেশে অন্য দুই গৃহকর্মী রুপালী ও সুফিয়াও শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো শুরু করেন। শিশুটিকে দিয়ে রাতদিন কাজ করানো হলেও পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না, বরং দিনের পর দিন বাথরুমে আটকে রাখা হতো। বাথরুম থেকে বাঁচতে শিশুটি বাথরুমের পানি ও পেস্ট খেয়ে জীবন ধারণ করত।

অভিযোগপত্রে নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে বলা হয়, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বীথি আক্তার ও অন্য দুই গৃহকর্মী রান্নার কাজে ব্যবহৃত লোহার খুন্তি আগুনে গরম করে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিতেন এবং বাঁশের কঞ্চি ও লাঠি দিয়ে পেটাতেন। আর এই পুরো নির্যাতন চোখের সামনে দেখলেও কোনো বাধা না দিয়ে দেখেও না দেখার ভান করে থাকতেন বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমান। তাই স্ত্রী বীথির সংঘটিত এই গুরুতর অপরাধ ও নির্যাতনের দায় সাফিকুর রহমান কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না বলে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন।

মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আসামি বীথি আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি শিশুটিকে বিভিন্ন সময়ে মারধর করার কথা স্বীকার করেন। অপর আসামি সুফিয়া বেগমও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, শিশুটি তার বিরুদ্ধে নারিকেল তেল ও সাবান চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলায় তিনি তাকে দুই দিন মারধর করেছিলেন। এছাড়া এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের কাছে ভুক্তভোগী শিশুটি নিজের জবানবন্দি দেয়। শিশুটি জানায়, উত্তপ্ত খুন্তির ছ্যাঁকা, মরিচের গুঁড়া চোখে চেপে ধরা, লাঠি দিয়ে পেটানো এবং শিল-পুতা দিয়ে আঘাত করে তার একটি দাঁত ভেঙে ফেলার মতো নৃশংস অত্যাচার চালানো হয়েছিল। তীব্র শীতে পোশাক না দিয়ে ভিজে বাথরুমে আটকে রাখার কারণে তার পায়ে পচন ধরে যায়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর শিশুটির বিয়ের খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত বছরের জুন মাসে তাকে ওই বাসায় এনে দেন। বাবা গোলাম মোস্তফা সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মেয়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এর পর থেকে আর পরিবারকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। দেখা করতে দেওয়া হলেও বড় পোশাক পরিয়ে বীথি ও বুয়ারা পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। পরবর্তীতে ৩১ জানুয়ারি সাফিকুরের স্ত্রী ফোন করে মেয়েটির অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। বাবা গিয়ে মারাত্মক আহত অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।