* পারকি বিচকে আস্তানা হিসেবে ব্যবহার

* ঘুরে বেড়ান দামি গাড়ি নিয়ে

* দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ এলাকাবাসীর

বিশেষ প্রতিবেদক: অবিশ্বাস্যভাবে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন আনোয়ারা উপজেলার ২নং বারশত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ। রাজনীতি ও ব্যবসাকে পুঁজি করে তিনি এই অঢেল সম্পদের মালিক হন বলে জানা গেছে। মাত্র কয়েক বছরের মাথায় তিনি কিভাবে এতোসব সম্পদ আর টাকার মালিক হলেন এই নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই অনেকের।

দশ বছর আগে বলতে গেলে তার কিছুই ছিল না। এক সময় তিনি রাজনৈতিক কর্মী পরিচয়ে নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা দিতেন। চট্টগ্রাম শহরে আসলে থাকতেন আদালতের পুর্ব পাশের রাস্তার বিপরীতে হোটেল সম্রাটে। আবাসিক হোটেলটির মালিক মনসুর নামক এক ব্যক্তির। তার বাড়ি পারকি দুধ কুমরা এলাকায় চেয়ারম্যান বাড়ির পাশে। একমাত্র পুঁজি ছিল তিনি ছাত্রলীগ করতেন। ছিলেন একাংশের সাধারণ সম্পাদকের পদেও।

চাউর আছে আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীন সাবেক ইউসিবি চেয়ারম্যান প্রয়াত জাফর আহমদ চৌধুরী প্রফেসর ডাঃ নাসির উদ্দীন মাহমুদসহ অনেকের সেল্টার পেতেন এই কাইয়ুম শাহ। আনোয়ারায় তখন উক্ত গ্রুপের নেতৃত্বে দায়িত্বে ছিলেন চেয়ারম্যান সামশুদ্দীন আহমদ চৌধুরী চেয়ারম্যান আবুল মনসুর চৌধুরী। আলোচিত জামাল উদ্দীন অপহরণ ও হত্যা মামলার আসামী শহীদ চেয়ারম্যান অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন চেয়ারম্যান আবুল কালাম চৌধুরী। দাপুটে কৌশলী এই তরুণ ছাত্রলীগ নেতা মাত্র দশ বছরের মাথায় হয়ে গেছেন গাড়ি বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ কাড়ি কাড়ি টাকা অঢেল সহায় সম্পদের মালিক।

আনোয়ারায় আরও অনেকে রাজনৈতিক পদপদবি ব্যবহার করে কোটিপতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে শুনা যাচ্ছে। যা তদন্ত করা হলে জানা যাবে সম্পদের আসল উৎস জানিয়েছেন নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র। পারকি বিচের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র অত্যাধুনিক লুসাই পার্ক, বন্দর কমিউনিটি সেন্টারে হোটেল দেয়াং (রেস্টুরেন্ট), আনোয়ারা হাসপাতালের সামনে মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল, রোগ নিরুপনি কেন্দ্র ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টিভি ফ্রিজের দোকান, শহরে ফ্ল্যাট বাড়ি, নতুন ভাবে নির্মানাধীন কিং অব আনোয়ারা ও কনভেনশন সেন্টার। কালাবিবির দিঘীর মোড় ও আনোয়ারা হাসপাতাল পিএবি সড়কের মাঝখানে নির্মানাধীন এই কনভেনশন সেন্টারের অবস্থান। পারকিতে আছে একক ডিস ব্যবসা। দামী গাড়িসহ আরো কতো অর্জন শেষ নেই তার। বাকি শিল্পপতি হওয়ার জানিয়েছেন একটি সুত্র। আনোয়ারায় আরেক বেনজির’র আবির্ভাব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়ও নাকি তার প্লট এবং ফ্ল্যাট আছে। আছে দামী গাড়িও। আনোয়ারার ভেতরসহ চট্টগ্রামের সব জায়গায় তিনি ঘুরে বেড়ান এই দামী গাড়িতে চড়ে। প্রয়োজন হলে তিনি উক্ত গাড়ি নিয়ে ঢাকায়ও চলে যান বলে জানা গেছে। দুবাইও পাড়ি দেন ঘন ঘন। দশ বছরের আগেকার কাইয়ুম আর এখানকার বর্তমানের কাইয়ুমকে আপনি চিনতে পারবেন না। তিনি পুরোপুরি বদলে গেছেন। তিনি একেবারে ঠান্ডা মেজাজের মানুষ। কাজ করেন ধীর স্থিরভাবে। সালিশ বিচার নিয়ে প্রায় ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় তাকে। পরিচয় দিয়ে থাকেন তিনি জনগনের চেয়ারম্যান সমাজ সেবক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। বলে থাকেন তার বলতে গেলে তেমন কিছুই নেই। এমনকি বউ বাচ্চার খরচ সামাল দিতেও নাকি কষ্ট হয় তার।

বিএনপি নেতা হাসান চেয়ারম্যাকে পরাজিত করে ২০১৬ সালে প্রথমবার চেয়ারম্যান হন তিনি। পরের বার ২০২২সালে হয়েছেন দলীয় প্রতীক নৌকা পেয়ে। আরও একবার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে হাসান চেয়ারম্যানের কাছে পরাজিত হন তিনি। আনোয়ারার বড় বড় প্রকল্পের কাজ করেন সিন্ডিকেট করে। উপকূলীয় বেড়িবাঁধ পারকি বিচের কাজও করছেন সাব ঠিকাদার হয়ে। অনেকের মন্তব্য, তিনি অল্প দিনে পেয়ে গেছেন আলাদিনের চেরাগ। সাবেক পুলিশের আইজিপি বেনজীরের মতো সম্পদ এর মালিকও হয়েছেন বলে জানিয়েছেন একটি সুত্র।

ব্যবসার আড়ালে আলোচিত এই চেয়ারম্যান’র আরও কি ব্যবসা আছে তা খতিয়ে দেখতে পারেন সরকারের এজেন্সিগুলো আর দুদকের মতো প্রতিষ্ঠান। তার এতোসব অর্জনের মাঝে তিনি সরকারকে কতো টাকার টেক্স দেন নাকি চেয়ারম্যান এবং সরকারী দলের নেতার দাপটে কর ফাঁকি দিয়ে থাকেন তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। তিনি একাধারে জনপ্রতিনিধি সরকারী দলের নেতা ব্যবসায়ীক যোগ্যতা অর্জন করায় প্রায় সময় থাকেন উগ্র মেজাজে। নিজেকে দেখান জাহির করেন তিনি বড় মাপের একজন লিডার। তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না। এসব চরিত্র আসায় অনেকে তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সঙ্গী সাথিরা এক সময় ভেনগার্ড’র মতো পাহারা দিতেন এই চেয়ারম্যানকে। এখনো আছে অনেকে। এলাকার ডিস ব্যবসাও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রনে। ছোট ভাই অহিদ তার এই ডিস ব্যবসা দেখেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, এককভাবে নয় সিন্ডিকেট করে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছেন তিনি। যৌথ ব্যবসার প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এলাকায় একক ডিস লাইন ব্যবসা বন্দর কমিউনিটি সেন্টারে টিভি ফ্রিজের দোকান রয়েছে বলে জানা গেছে। অনেকে মন্তব্য করে বলেছেন, কোটিপতি এই চেয়ারম্যান এখন হিসাব দেওয়ার ভয়ে আছেন। এই ভয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কালো টাকাকে সাদা করার জন্য গোপনে টাকা লগ্নি করছেন বলে একটি সুত্র থেকে জানা গেছে।

পারকির এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এই চেয়ারম্যান মাত্র অল্পদিনে কতো টাকার মালিক হয়েছন হয়তো তিনিও জানেন না। এলাকার লোকজনও তার ক্যারিয়ার নিয়ে হতবাক।

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সুত্রগুলো জানায়, এমএ কাইয়ুম শাহ’র বাড়ি পারকির দুধ কুমরা গ্রামে। তার পিতার নাম মরহুম আবদুস ছবুর। নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জম্ম। ছাত্র অবস্থায় তিনি ছাত্র লীগ করতেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা সামশু-মনসুর গ্রুপ ছাত্রলীগ একাংশের সাধারণ সম্পাদক হন। সভাপতি ছিলেন বুরহান উদ্দীন চৌধুরী মুরাদ। পরে দু’জনই উক্ত গ্রুপ ত্যাগ করেন। মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু গ্রুপে যোগ দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হন কাইয়ুম শাহ। মুরাদ হন আখতারুজ্জান চৌধুরী বাবু এমপির একান্ত সহকারী। তবে এই কাইয়ুম শাহ উপজেলা আওয়ামী লীগের বড়সড় কোন পদে নেই, আছেন সদস্য পদে। তার ভাগ্য বদলানো শুরু হয় বসুন্ধরা গ্রুপ আসার পর। চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরীর পাশের মাঝের চরে বেসরকারী শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার কারখানা প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। পরে বসুন্ধরা গ্রুপকে উচ্ছেদ করে সরকার উক্ত জমি বিদ্যুৎ কারখানার জন্য দখল করে নেয়।

সুত্রটি আরো জানায়, ২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। এলাকায় গড়ে তুলেন নিজস্ব লোকবল (ক্যাডারবাহিনী)। এই লোকবল দিয়েই রাজনীতি ও প্রশাসনের সেল্টার নিয়ে চেয়ারম্যান হন তিনি। এরপর শুরু হয় ভাগ্যের জোয়ার। গড়া শুরু হয় একের পর এক নানা প্রতিষ্ঠান। সমুদ্র উপকূল পারকির চরে বিশাল জমির উপর প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন বিনোদন কেন্দ্র অত্যাধুনিক লুসাই পার্ক। সরকারী জায়গা দখল করে পার্কটি গড়ে তোলা হয় বলে একটি সুত্র জানিয়েছেন। এরপর করেন অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তিনি আলাদিনের চেরাগের মতো হঠাৎ বদলে যাওয়ায় প্রশ্নের অন্ত নেই সাধারণ মানুষের। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝেও শুরু হয় নানা গুঞ্জন।

এলাকার লোকজন জানান, একজন চেয়ারম্যানতো এতো সম্পদ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোটি টাকার মালিক হতে পারেন না। মাঝখানে শুনা গিয়েছিল তাকে নাকি সরকারী একটি গোয়েন্দা সংস্থা ধরে নিয়ে গেছেন। পরে সেটির বিশ্বাসযোগ্য কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়, ব্যবসায়ীক ও রাজনৈতিকভাবে রয়েছে তার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এই দুটোই নিয়ন্ত্রিত হয় পারকি বিচে বসে। উপকুলীয় পারকি ও গহিরা সমুদ্র উপকূল এলাকাটি চোরাচালান জোন হিসেবে পরিচিত। বেশ কিছুদিন আগে অন্তত পাচঁশ’কোটি টাকার অধিক বড় ধরনের একটি ইয়াবার চালান আটক করে র‌্যাব সদস্যরা। ধরা পড়েন মোজাহের সওদাগর নামক কুখ্যাত এক চোরাকারবারি। তারপরও এই এলাকার চোরাচালান ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছেনা। ইয়াবার এই চালানে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আরেক চোরাকারবারি নুন জলিল আমেরিকায় পালিয়ে গেছেন। তিনি এখনো দেশে আসেননি। দুইজনের বাড়ি গহিরা এলাকায়। তবে এই সমুদ্র উপকূলকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের একটি চোরাচালান সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। উক্ত সিন্ডিকেট পাশের মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশ থেকে প্রায় সময় মাদকসহ নানা নিষিদ্ধ পণ্য দেশে নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় একটি দৈনিকে আনোয়ারার সমুদ্র উপকূলে চেরাচালান ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়। অনেকে এই চোরাচালান ব্যবসায় ফুলে ফেফে উঠেছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ থাকলেও সিন্ডিকেটের এসব সদস্য থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে বন্ধ হচ্ছেনা উপকূলের মাদক ব্যবসা। ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের কারণে স্থানীয় যুব সমাজ আজ ধ্বংসের পথে। শুধু উপকূলে নহে আনোয়ারাসহ চট্টগ্রামের সবখানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন অনেকের। এক্ষেত্রে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ঘুমে আছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকার সাধারণ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরী করা হয়।

* পারকি বিচকে আস্তানা হিসেবে ব্যবহার

* ঘুরে বেড়ান দামি গাড়ি নিয়ে

* দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ এলাকাবাসীর

বিশেষ প্রতিবেদক: অবিশ্বাস্যভাবে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন আনোয়ারা উপজেলার ২নং বারশত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ। রাজনীতি ও ব্যবসাকে পুঁজি করে তিনি এই অঢেল সম্পদের মালিক হন বলে জানা গেছে। মাত্র কয়েক বছরের মাথায় তিনি কিভাবে এতোসব সম্পদ আর টাকার মালিক হলেন এই নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই অনেকের।

দশ বছর আগে বলতে গেলে তার কিছুই ছিল না। এক সময় তিনি রাজনৈতিক কর্মী পরিচয়ে নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা দিতেন। চট্টগ্রাম শহরে আসলে থাকতেন আদালতের পুর্ব পাশের রাস্তার বিপরীতে হোটেল সম্রাটে। আবাসিক হোটেলটির মালিক মনসুর নামক এক ব্যক্তির। তার বাড়ি পারকি দুধ কুমরা এলাকায় চেয়ারম্যান বাড়ির পাশে। একমাত্র পুঁজি ছিল তিনি ছাত্রলীগ করতেন। ছিলেন একাংশের সাধারণ সম্পাদকের পদেও।

চাউর আছে আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীন সাবেক ইউসিবি চেয়ারম্যান প্রয়াত জাফর আহমদ চৌধুরী প্রফেসর ডাঃ নাসির উদ্দীন মাহমুদসহ অনেকের সেল্টার পেতেন এই কাইয়ুম শাহ। আনোয়ারায় তখন উক্ত গ্রুপের নেতৃত্বে দায়িত্বে ছিলেন চেয়ারম্যান সামশুদ্দীন আহমদ চৌধুরী চেয়ারম্যান আবুল মনসুর চৌধুরী। আলোচিত জামাল উদ্দীন অপহরণ ও হত্যা মামলার আসামী শহীদ চেয়ারম্যান অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন চেয়ারম্যান আবুল কালাম চৌধুরী। দাপুটে কৌশলী এই তরুণ ছাত্রলীগ নেতা মাত্র দশ বছরের মাথায় হয়ে গেছেন গাড়ি বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ কাড়ি কাড়ি টাকা অঢেল সহায় সম্পদের মালিক।

আনোয়ারায় আরও অনেকে রাজনৈতিক পদপদবি ব্যবহার করে কোটিপতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে শুনা যাচ্ছে। যা তদন্ত করা হলে জানা যাবে সম্পদের আসল উৎস জানিয়েছেন নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র। পারকি বিচের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র অত্যাধুনিক লুসাই পার্ক, বন্দর কমিউনিটি সেন্টারে হোটেল দেয়াং (রেস্টুরেন্ট), আনোয়ারা হাসপাতালের সামনে মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল, রোগ নিরুপনি কেন্দ্র ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টিভি ফ্রিজের দোকান, শহরে ফ্ল্যাট বাড়ি, নতুন ভাবে নির্মানাধীন কিং অব আনোয়ারা ও কনভেনশন সেন্টার। কালাবিবির দিঘীর মোড় ও আনোয়ারা হাসপাতাল পিএবি সড়কের মাঝখানে নির্মানাধীন এই কনভেনশন সেন্টারের অবস্থান। পারকিতে আছে একক ডিস ব্যবসা। দামী গাড়িসহ আরো কতো অর্জন শেষ নেই তার। বাকি শিল্পপতি হওয়ার জানিয়েছেন একটি সুত্র। আনোয়ারায় আরেক বেনজির’র আবির্ভাব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়ও নাকি তার প্লট এবং ফ্ল্যাট আছে। আছে দামী গাড়িও। আনোয়ারার ভেতরসহ চট্টগ্রামের সব জায়গায় তিনি ঘুরে বেড়ান এই দামী গাড়িতে চড়ে। প্রয়োজন হলে তিনি উক্ত গাড়ি নিয়ে ঢাকায়ও চলে যান বলে জানা গেছে। দুবাইও পাড়ি দেন ঘন ঘন। দশ বছরের আগেকার কাইয়ুম আর এখানকার বর্তমানের কাইয়ুমকে আপনি চিনতে পারবেন না। তিনি পুরোপুরি বদলে গেছেন। তিনি একেবারে ঠান্ডা মেজাজের মানুষ। কাজ করেন ধীর স্থিরভাবে। সালিশ বিচার নিয়ে প্রায় ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় তাকে। পরিচয় দিয়ে থাকেন তিনি জনগনের চেয়ারম্যান সমাজ সেবক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। বলে থাকেন তার বলতে গেলে তেমন কিছুই নেই। এমনকি বউ বাচ্চার খরচ সামাল দিতেও নাকি কষ্ট হয় তার।

বিএনপি নেতা হাসান চেয়ারম্যাকে পরাজিত করে ২০১৬ সালে প্রথমবার চেয়ারম্যান হন তিনি। পরের বার ২০২২সালে হয়েছেন দলীয় প্রতীক নৌকা পেয়ে। আরও একবার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে হাসান চেয়ারম্যানের কাছে পরাজিত হন তিনি। আনোয়ারার বড় বড় প্রকল্পের কাজ করেন সিন্ডিকেট করে। উপকূলীয় বেড়িবাঁধ পারকি বিচের কাজও করছেন সাব ঠিকাদার হয়ে। অনেকের মন্তব্য, তিনি অল্প দিনে পেয়ে গেছেন আলাদিনের চেরাগ। সাবেক পুলিশের আইজিপি বেনজীরের মতো সম্পদ এর মালিকও হয়েছেন বলে জানিয়েছেন একটি সুত্র।

ব্যবসার আড়ালে আলোচিত এই চেয়ারম্যান’র আরও কি ব্যবসা আছে তা খতিয়ে দেখতে পারেন সরকারের এজেন্সিগুলো আর দুদকের মতো প্রতিষ্ঠান। তার এতোসব অর্জনের মাঝে তিনি সরকারকে কতো টাকার টেক্স দেন নাকি চেয়ারম্যান এবং সরকারী দলের নেতার দাপটে কর ফাঁকি দিয়ে থাকেন তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। তিনি একাধারে জনপ্রতিনিধি সরকারী দলের নেতা ব্যবসায়ীক যোগ্যতা অর্জন করায় প্রায় সময় থাকেন উগ্র মেজাজে। নিজেকে দেখান জাহির করেন তিনি বড় মাপের একজন লিডার। তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না। এসব চরিত্র আসায় অনেকে তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সঙ্গী সাথিরা এক সময় ভেনগার্ড’র মতো পাহারা দিতেন এই চেয়ারম্যানকে। এখনো আছে অনেকে। এলাকার ডিস ব্যবসাও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রনে। ছোট ভাই অহিদ তার এই ডিস ব্যবসা দেখেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, এককভাবে নয় সিন্ডিকেট করে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছেন তিনি। যৌথ ব্যবসার প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এলাকায় একক ডিস লাইন ব্যবসা বন্দর কমিউনিটি সেন্টারে টিভি ফ্রিজের দোকান রয়েছে বলে জানা গেছে। অনেকে মন্তব্য করে বলেছেন, কোটিপতি এই চেয়ারম্যান এখন হিসাব দেওয়ার ভয়ে আছেন। এই ভয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কালো টাকাকে সাদা করার জন্য গোপনে টাকা লগ্নি করছেন বলে একটি সুত্র থেকে জানা গেছে।

পারকির এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এই চেয়ারম্যান মাত্র অল্পদিনে কতো টাকার মালিক হয়েছন হয়তো তিনিও জানেন না। এলাকার লোকজনও তার ক্যারিয়ার নিয়ে হতবাক।

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সুত্রগুলো জানায়, এমএ কাইয়ুম শাহ’র বাড়ি পারকির দুধ কুমরা গ্রামে। তার পিতার নাম মরহুম আবদুস ছবুর। নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জম্ম। ছাত্র অবস্থায় তিনি ছাত্র লীগ করতেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা সামশু-মনসুর গ্রুপ ছাত্রলীগ একাংশের সাধারণ সম্পাদক হন। সভাপতি ছিলেন বুরহান উদ্দীন চৌধুরী মুরাদ। পরে দু’জনই উক্ত গ্রুপ ত্যাগ করেন। মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু গ্রুপে যোগ দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হন কাইয়ুম শাহ। মুরাদ হন আখতারুজ্জান চৌধুরী বাবু এমপির একান্ত সহকারী। তবে এই কাইয়ুম শাহ উপজেলা আওয়ামী লীগের বড়সড় কোন পদে নেই, আছেন সদস্য পদে। তার ভাগ্য বদলানো শুরু হয় বসুন্ধরা গ্রুপ আসার পর। চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরীর পাশের মাঝের চরে বেসরকারী শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার কারখানা প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। পরে বসুন্ধরা গ্রুপকে উচ্ছেদ করে সরকার উক্ত জমি বিদ্যুৎ কারখানার জন্য দখল করে নেয়।

সুত্রটি আরো জানায়, ২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। এলাকায় গড়ে তুলেন নিজস্ব লোকবল (ক্যাডারবাহিনী)। এই লোকবল দিয়েই রাজনীতি ও প্রশাসনের সেল্টার নিয়ে চেয়ারম্যান হন তিনি। এরপর শুরু হয় ভাগ্যের জোয়ার। গড়া শুরু হয় একের পর এক নানা প্রতিষ্ঠান। সমুদ্র উপকূল পারকির চরে বিশাল জমির উপর প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন বিনোদন কেন্দ্র অত্যাধুনিক লুসাই পার্ক। সরকারী জায়গা দখল করে পার্কটি গড়ে তোলা হয় বলে একটি সুত্র জানিয়েছেন। এরপর করেন অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তিনি আলাদিনের চেরাগের মতো হঠাৎ বদলে যাওয়ায় প্রশ্নের অন্ত নেই সাধারণ মানুষের। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝেও শুরু হয় নানা গুঞ্জন।

এলাকার লোকজন জানান, একজন চেয়ারম্যানতো এতো সম্পদ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোটি টাকার মালিক হতে পারেন না। মাঝখানে শুনা গিয়েছিল তাকে নাকি সরকারী একটি গোয়েন্দা সংস্থা ধরে নিয়ে গেছেন। পরে সেটির বিশ্বাসযোগ্য কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়, ব্যবসায়ীক ও রাজনৈতিকভাবে রয়েছে তার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এই দুটোই নিয়ন্ত্রিত হয় পারকি বিচে বসে। উপকুলীয় পারকি ও গহিরা সমুদ্র উপকূল এলাকাটি চোরাচালান জোন হিসেবে পরিচিত। বেশ কিছুদিন আগে অন্তত পাচঁশ’কোটি টাকার অধিক বড় ধরনের একটি ইয়াবার চালান আটক করে র‌্যাব সদস্যরা। ধরা পড়েন মোজাহের সওদাগর নামক কুখ্যাত এক চোরাকারবারি। তারপরও এই এলাকার চোরাচালান ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছেনা। ইয়াবার এই চালানে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আরেক চোরাকারবারি নুন জলিল আমেরিকায় পালিয়ে গেছেন। তিনি এখনো দেশে আসেননি। দুইজনের বাড়ি গহিরা এলাকায়। তবে এই সমুদ্র উপকূলকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের একটি চোরাচালান সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। উক্ত সিন্ডিকেট পাশের মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশ থেকে প্রায় সময় মাদকসহ নানা নিষিদ্ধ পণ্য দেশে নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় একটি দৈনিকে আনোয়ারার সমুদ্র উপকূলে চেরাচালান ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়। অনেকে এই চোরাচালান ব্যবসায় ফুলে ফেফে উঠেছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ থাকলেও সিন্ডিকেটের এসব সদস্য থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে বন্ধ হচ্ছেনা উপকূলের মাদক ব্যবসা। ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের কারণে স্থানীয় যুব সমাজ আজ ধ্বংসের পথে। শুধু উপকূলে নহে আনোয়ারাসহ চট্টগ্রামের সবখানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন অনেকের। এক্ষেত্রে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ঘুমে আছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকার সাধারণ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরী করা হয়।