নিউজ ডেস্ক: এমএস (ম্যানুফ্যাকচারিং স্টিল) রডের দাম বেড়েই চলেছে। প্রতি টন ৬০ গ্রেড রডের দাম এখন ৯৪ হাজার টাকা থেকে ৯৬ হাজার টাকা। আর ৪০ গ্রেডের রডের দাম ৮৫ হাজার টাকা থেকে ৮৮ হাজার টাকায় ওঠানামা করছে। তিন বছর আগেও ৬০ গ্রেডের রডের প্রতি টন দাম ছিল ৫৫ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা। তিন বছরের মধ্যেই দাম দ্বিগুণ হয়ে টনপ্রতি দাম লাখ টাকা ছুঁইছুঁই। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ সামগ্রীর লাঘামহীনভাবে মুল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জসিম এন্ড সন্স এর মালিক দি ক্রাইমকে জানান, বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে টেন্ডারে বিড করার সময় নির্মাণ সামগ্রীর মুল্য নির্ধারণ করে বিড করলেও কার্যাদেশ অনুমোদন হওয়ার পর এসব নির্মাণ সামগ্রীর দাম হয়ে যায় দ্বিগুন। ফলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো লাভের মুখ না দেখে লস দেয়ায় তারা মাঠে বসছে।

রিরোলিং মিল মালিকরা বলছেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা স্ক্র্যাপের দাম বৃদ্ধি, ডলারের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও কেমিক্যালের দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে রডের দাম বেড়েছে। রড উৎপাদনে স্টিল মিলে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। দেশের একটি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন করা হয় এ রাসায়নিক। প্রতি টন এই কেমিক্যালের মূল্য এখন ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রতি টন কয়েক মাস আগেও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। এখন প্রতি টনে গড়ে দাম বেড়েছে ৩০ হাজার টাকা। এতে বেড়ে গেছে উৎপাদন ব্যয়।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি ও জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রড তৈরির সব উপকরণের দাম বেড়েছে। ডলার থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস লুব্রিকেন্ট অয়েলসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। তাই রডের দাম বেড়েছে বাজারে।

সংগঠনের সাবেক সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, বিদেশ থেকে স্ক্র্যাপ আমদানি কমে গেছে। একমাত্র কারণ ডলার সংকট। অন্যদিকে প্রতি টন স্ক্র্যাপের দামও বেড়ে গেছে। প্রতি টন স্ক্র্যাপ এখন ৪৪০-৪৫০ ডলার। এখন বিলেট আমদানি একেবারেই কম। স্ক্র্যাপ আমদানি করে দেশেই বিলেট তৈরি করা হয়। তাই স্টিল রিরোলিং মিলের রড উৎপাদনের জন্য অনেকটি আমদানিনির্ভর হয়ে গেছে স্ক্র্যাপ। পাশাপাশি গ্যাস বিদ্যুতের দামও বেড়েছে। এতে সার্বিক উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। মূলত এসব কারণেই এমএস রডের দাম এখন চড়া। ভালো মানের প্রতি টন রডের দাম ৯৬ হাজার টাকা।

৪০ গ্রেডের রডের দাম এবং উৎপাদন সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের রিরোলিং মিলগুলোতে ৪০ গ্রেডের রড খুব কম উৎপাদন হয়। গ্রেড ভেদে উৎপাদিত রডের দামের পার্থক্য এখন বেশি নেই। দাম প্রায় ৬০ গ্রেড রডের কাছাকাছি।

চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ এলাকার সালেহ স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক ইকবাল বলেন, রড উৎপাদনে আমাদের ব্যয় বেড়েছে অনেক। আমাদের টিকে থাকা এখন দায় হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের দাম তো বাড়তি। সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আমরা সপ্তাহের সাত দিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারি না। ছয় দিন ব্যবহার করতে পারি। এককথায় রিরোলিং মিল মালিকদের আত্মহত্যা করা ছাড়া বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) সভাপতি প্রকৌশলী বিমল চন্দ্র রায় শনিবার বলেন, নির্মাণ শিল্পে জড়িতরা এখন ‘লস’ এর মধ্যে আছে। এক কথায় সবাই ক্ষতির মুখে আছে। রডের দাম বৃদ্ধি ছাড়াও নির্মাণ শিল্পের অন্তত একশ উপকরণ আছে। সব উপকরণের দাম এখন বেড়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবে এ শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

রিরোলিং মালিকদের কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের কারসাজি আছে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট বলব না। তবে সামগ্রিকভাবে সবকিছুর দাম বাড়তির কারণে বিশেষ করে নির্মাণ শিল্পের উপকরণের দাম বাড়তি। তাই স্বাভাবিকভাবে রডের দামও বেড়েছে।

রিহ্যাবের রিজিওনাল কমিটির সাবেক সদস্য এএমএম আবদুল গাফফার মিয়াজি বলেন, রডের দাম বৃদ্ধির কারণে নির্মাণ শিল্প কঠিন সংকটে। নির্মাণ উপকরণ যে হারে বেড়েছে ফ্ল্যাট বিক্রি সে রকম নেই। আবার ক্রেতাদের উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে স্কয়ার ফিট পিছু দাম বেশি নিতে চাইলে তারা দিতে রাজি হন না। তারা ফ্ল্যাট কিনতে আগের দামই দিতে চান। সব মিলিয়ে আমরা বিশেষ করে আবাসন শিল্পের ব্যবসায়ীরা খারাপ সময় পার করছি।

বিএসএমএ সূত্র জানায়, দেশে বছরে বর্তমানে ৬০ লাখ টন রড উৎপাদন হয়। চাহিদা আরও অনেক বেশি থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে কম। সারা দেশে বড় ৩০টি রিরোলিং মিল আছে। ছোট পরিসরের স্টিল রিরোলিং মিল ছিল আড়াই শতাধিক। বর্তমানে চালু আছে ১০০টি। নানা ধরনের সংকটের কারণে অন্তত ১৫০টি ছোট রিরোলিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে।

শিপ ব্রেকিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, পুরোনো জাহাজ আমদানির ব্যবসা তো এখন নেই। আগে প্রতি মাসেই তিন লাখ টন সমপরিমাণ স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হতো। আর এখন প্রতি মাসে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয় মাত্র এক লাখ টন। জাহাজ আমদানি কমে যাওয়ায় রিরোলিং মিলগুলোতে স্ক্র্যাপ সরবরাহ কমে গেছে। উৎপাদনের উপকরণ সংকটে কমে গেছে উৎপাদন। এ জন্য বাড়ছে রডের দাম।

স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি কেন কমেছে এ প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রধান কারণ একটাই ডলার সংকট। সংকটের কারণে ব্যাংকে এলসি খোলা যাচ্ছে না। তাই জাহাজ আমদানি হচ্ছে কম।

সীতাকুণ্ডে মাত্র ২৫টি শিপ ইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এক সময় ১৬০টি সক্রিয় শিপ ইয়ার্ড ছিল সেখানে। প্রতি মাসে আমদানি করা প্রচুর স্ক্র্যাপ জাহাজ বিচিং হতো। এখন দেনার ভারে অনেক আমদানিকারক ইয়ার্ডই বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই রিরোলিং মিলগুলোতে আগের মতো স্ক্র্যাপ সরবরাহ নেই।

চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে পাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১০ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৮ টন সমপরিমাণ ১৬৫ স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছে। অথচ ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২২ লাখ ১৭ হাজার ৯১ টন সমপরিমাণ ১৯৪টি স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছে। ১৪ বছরের মধ্যে আমদানি কমে গেছে অর্ধেকের কম। ২০২১-২২ অর্থবছরেও ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ২৪০ টন সমপরিমাণ ২০৯টি স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি করা হয়েছে। দুই যুগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে ২৭ লাখ ৭১ হাজার ২১০ টন ওজনের ২৭২টি স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরী ও মফস্বল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রিরোলিং মিল মালিকদের অনুমোদিত ডিলার বা বিক্রেতারা রড বিক্রি করে থাকেন। বিক্রেতাদের বেশি স্টল নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায়। শনিবার দুপুরে এমডি নজরুল ট্রেডিংয়ে দেখা যায়, স্টলের ভেতরে বাইরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রড।

দাম জানতে চাইলে বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রড বিক্রি করে থাকি। শনিবার ৬০ গ্রেডের রড প্রতি টন ৯৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। অন্যান্য ব্র্যান্ডের রডগুলো মান ভেদে দাম প্রায় একই।

নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় রডের ডিলারদের স্টলগুলো ঘুরে দেখা যায়, সবখানে বিএসআরএম, কেএসআরএম, একেএস ও জিপিএইচ ব্র্যান্ডের রড বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলেন, দোকানে মজুদ কম থাকলেও সমস্যা নেই। অর্ডার পেলে আমরা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করে থাকি। দাম কেমন-এ প্রশ্নে বিক্রেতাদের প্রায় সবাই জানান, দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। তাই ক্রেতাও আগের মতো নেই।

নিউজ ডেস্ক: এমএস (ম্যানুফ্যাকচারিং স্টিল) রডের দাম বেড়েই চলেছে। প্রতি টন ৬০ গ্রেড রডের দাম এখন ৯৪ হাজার টাকা থেকে ৯৬ হাজার টাকা। আর ৪০ গ্রেডের রডের দাম ৮৫ হাজার টাকা থেকে ৮৮ হাজার টাকায় ওঠানামা করছে। তিন বছর আগেও ৬০ গ্রেডের রডের প্রতি টন দাম ছিল ৫৫ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা। তিন বছরের মধ্যেই দাম দ্বিগুণ হয়ে টনপ্রতি দাম লাখ টাকা ছুঁইছুঁই। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ সামগ্রীর লাঘামহীনভাবে মুল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জসিম এন্ড সন্স এর মালিক দি ক্রাইমকে জানান, বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে টেন্ডারে বিড করার সময় নির্মাণ সামগ্রীর মুল্য নির্ধারণ করে বিড করলেও কার্যাদেশ অনুমোদন হওয়ার পর এসব নির্মাণ সামগ্রীর দাম হয়ে যায় দ্বিগুন। ফলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো লাভের মুখ না দেখে লস দেয়ায় তারা মাঠে বসছে।

রিরোলিং মিল মালিকরা বলছেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা স্ক্র্যাপের দাম বৃদ্ধি, ডলারের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও কেমিক্যালের দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে রডের দাম বেড়েছে। রড উৎপাদনে স্টিল মিলে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। দেশের একটি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন করা হয় এ রাসায়নিক। প্রতি টন এই কেমিক্যালের মূল্য এখন ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রতি টন কয়েক মাস আগেও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। এখন প্রতি টনে গড়ে দাম বেড়েছে ৩০ হাজার টাকা। এতে বেড়ে গেছে উৎপাদন ব্যয়।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি ও জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রড তৈরির সব উপকরণের দাম বেড়েছে। ডলার থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস লুব্রিকেন্ট অয়েলসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। তাই রডের দাম বেড়েছে বাজারে।

সংগঠনের সাবেক সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, বিদেশ থেকে স্ক্র্যাপ আমদানি কমে গেছে। একমাত্র কারণ ডলার সংকট। অন্যদিকে প্রতি টন স্ক্র্যাপের দামও বেড়ে গেছে। প্রতি টন স্ক্র্যাপ এখন ৪৪০-৪৫০ ডলার। এখন বিলেট আমদানি একেবারেই কম। স্ক্র্যাপ আমদানি করে দেশেই বিলেট তৈরি করা হয়। তাই স্টিল রিরোলিং মিলের রড উৎপাদনের জন্য অনেকটি আমদানিনির্ভর হয়ে গেছে স্ক্র্যাপ। পাশাপাশি গ্যাস বিদ্যুতের দামও বেড়েছে। এতে সার্বিক উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। মূলত এসব কারণেই এমএস রডের দাম এখন চড়া। ভালো মানের প্রতি টন রডের দাম ৯৬ হাজার টাকা।

৪০ গ্রেডের রডের দাম এবং উৎপাদন সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের রিরোলিং মিলগুলোতে ৪০ গ্রেডের রড খুব কম উৎপাদন হয়। গ্রেড ভেদে উৎপাদিত রডের দামের পার্থক্য এখন বেশি নেই। দাম প্রায় ৬০ গ্রেড রডের কাছাকাছি।

চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ এলাকার সালেহ স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক ইকবাল বলেন, রড উৎপাদনে আমাদের ব্যয় বেড়েছে অনেক। আমাদের টিকে থাকা এখন দায় হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের দাম তো বাড়তি। সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আমরা সপ্তাহের সাত দিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারি না। ছয় দিন ব্যবহার করতে পারি। এককথায় রিরোলিং মিল মালিকদের আত্মহত্যা করা ছাড়া বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) সভাপতি প্রকৌশলী বিমল চন্দ্র রায় শনিবার বলেন, নির্মাণ শিল্পে জড়িতরা এখন ‘লস’ এর মধ্যে আছে। এক কথায় সবাই ক্ষতির মুখে আছে। রডের দাম বৃদ্ধি ছাড়াও নির্মাণ শিল্পের অন্তত একশ উপকরণ আছে। সব উপকরণের দাম এখন বেড়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবে এ শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

রিরোলিং মালিকদের কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের কারসাজি আছে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট বলব না। তবে সামগ্রিকভাবে সবকিছুর দাম বাড়তির কারণে বিশেষ করে নির্মাণ শিল্পের উপকরণের দাম বাড়তি। তাই স্বাভাবিকভাবে রডের দামও বেড়েছে।

রিহ্যাবের রিজিওনাল কমিটির সাবেক সদস্য এএমএম আবদুল গাফফার মিয়াজি বলেন, রডের দাম বৃদ্ধির কারণে নির্মাণ শিল্প কঠিন সংকটে। নির্মাণ উপকরণ যে হারে বেড়েছে ফ্ল্যাট বিক্রি সে রকম নেই। আবার ক্রেতাদের উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে স্কয়ার ফিট পিছু দাম বেশি নিতে চাইলে তারা দিতে রাজি হন না। তারা ফ্ল্যাট কিনতে আগের দামই দিতে চান। সব মিলিয়ে আমরা বিশেষ করে আবাসন শিল্পের ব্যবসায়ীরা খারাপ সময় পার করছি।

বিএসএমএ সূত্র জানায়, দেশে বছরে বর্তমানে ৬০ লাখ টন রড উৎপাদন হয়। চাহিদা আরও অনেক বেশি থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে কম। সারা দেশে বড় ৩০টি রিরোলিং মিল আছে। ছোট পরিসরের স্টিল রিরোলিং মিল ছিল আড়াই শতাধিক। বর্তমানে চালু আছে ১০০টি। নানা ধরনের সংকটের কারণে অন্তত ১৫০টি ছোট রিরোলিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে।

শিপ ব্রেকিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, পুরোনো জাহাজ আমদানির ব্যবসা তো এখন নেই। আগে প্রতি মাসেই তিন লাখ টন সমপরিমাণ স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হতো। আর এখন প্রতি মাসে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয় মাত্র এক লাখ টন। জাহাজ আমদানি কমে যাওয়ায় রিরোলিং মিলগুলোতে স্ক্র্যাপ সরবরাহ কমে গেছে। উৎপাদনের উপকরণ সংকটে কমে গেছে উৎপাদন। এ জন্য বাড়ছে রডের দাম।

স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি কেন কমেছে এ প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রধান কারণ একটাই ডলার সংকট। সংকটের কারণে ব্যাংকে এলসি খোলা যাচ্ছে না। তাই জাহাজ আমদানি হচ্ছে কম।

সীতাকুণ্ডে মাত্র ২৫টি শিপ ইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এক সময় ১৬০টি সক্রিয় শিপ ইয়ার্ড ছিল সেখানে। প্রতি মাসে আমদানি করা প্রচুর স্ক্র্যাপ জাহাজ বিচিং হতো। এখন দেনার ভারে অনেক আমদানিকারক ইয়ার্ডই বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই রিরোলিং মিলগুলোতে আগের মতো স্ক্র্যাপ সরবরাহ নেই।

চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে পাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১০ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৮ টন সমপরিমাণ ১৬৫ স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছে। অথচ ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২২ লাখ ১৭ হাজার ৯১ টন সমপরিমাণ ১৯৪টি স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছে। ১৪ বছরের মধ্যে আমদানি কমে গেছে অর্ধেকের কম। ২০২১-২২ অর্থবছরেও ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ২৪০ টন সমপরিমাণ ২০৯টি স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি করা হয়েছে। দুই যুগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে ২৭ লাখ ৭১ হাজার ২১০ টন ওজনের ২৭২টি স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরী ও মফস্বল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রিরোলিং মিল মালিকদের অনুমোদিত ডিলার বা বিক্রেতারা রড বিক্রি করে থাকেন। বিক্রেতাদের বেশি স্টল নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায়। শনিবার দুপুরে এমডি নজরুল ট্রেডিংয়ে দেখা যায়, স্টলের ভেতরে বাইরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রড।

দাম জানতে চাইলে বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রড বিক্রি করে থাকি। শনিবার ৬০ গ্রেডের রড প্রতি টন ৯৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। অন্যান্য ব্র্যান্ডের রডগুলো মান ভেদে দাম প্রায় একই।

নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় রডের ডিলারদের স্টলগুলো ঘুরে দেখা যায়, সবখানে বিএসআরএম, কেএসআরএম, একেএস ও জিপিএইচ ব্র্যান্ডের রড বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলেন, দোকানে মজুদ কম থাকলেও সমস্যা নেই। অর্ডার পেলে আমরা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করে থাকি। দাম কেমন-এ প্রশ্নে বিক্রেতাদের প্রায় সবাই জানান, দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। তাই ক্রেতাও আগের মতো নেই।