চট্টগ্রামবুধবার , ৮ নভেম্বর ২০২৩
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চট্টগ্রামের খবর
  8. জাতীয়
  9. জেলা/উপজেলা
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. নারী ও শিশু
  13. নির্বাচনের মাঠ
  14. প্রেস বিজ্ঞপ্ত
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপি কি ভেঙে যাচ্ছে ?

Nandi
নভেম্বর ৮, ২০২৩ ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দি ক্রাইম ডেস্ক: এক দফা দাবি আদায়ের চূড়ান্ত আন্দোলনে রাজপথে সরব বিএনপি; ঠিক সেই মুহূর্তে ‘বিএনপি ভাঙছে’- এমন জোর আলোচনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিএনপির কাছাকাছি নামে নিবন্ধন পাওয়া দুটি দলে বিএনপির বেশকিছু নেতার যোগদানের আলামত দৃশ্যমান। কেউ কেউ নতুন দল গড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছেন। তবে, বিএনপি নেতারা এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে ভাঙার নানা তৎপরতা চলছিল। এখন ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১২ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তারের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে দল ভাঙার বিষয়টি বলাবলি হচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, দল ভাঙার তৎপরতার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

এর মধ্যে হঠাৎ করেই হাটে হাঁড়ি ভাঙেন তথ্য ও সমপ্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। গত সোমবার তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলটি থেকে নেতারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, সোমবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘বিএনপির অবরোধ-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শান্তি সমাবেশে’ হাছান মাহমুদ বলেন, অনেকেই লাইন ধরে আছে তৃণমূলে যোগ দেয়ার জন্য। আর বিএনপির সাবেক মন্ত্রী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজের নেতৃত্বে আরেকটি দল হতে যাচ্ছে। তারা শিগগিরই ঢাকায় কনভেনশন করবেন। সুতরাং বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও নেতাদের ঠেকাতে পারবে না। মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরই হাওয়া লাগে বিএনপি ভাঙার আলোচনায়।

নতুন দল গঠন বা যোগ দেয়া নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, বিএনপির ভোটে অংশ নেয়া উচিত। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে আমি এই দল থেকেই নির্বাচন করব। তবে আপাতত আমি রাজনৈতিক পরিস্থিতির খবর রাখতে পারছি না। কারণ, আমি শারীরিকভাবে খুব অসুস্থ। রাজনীতির খবর রাখার মতো শারীরিক অবস্থা আমার নেই। মেজর হাফিজ বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে তখন রাজনীতির দিকে নজর দেব। যদি আমার শরীর সুস্থ থাকে। এ পর্যায়ে তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা কে করবে, কীভাবে করবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

‘কিংস পার্টির’ টার্গেট বিএনপির ক্ষুব্ধ বঞ্চিতরা : সূত্র জানায়, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে ‘কিংস পার্টি’। নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পাওয়া বিএনপির সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে গঠিত ‘তৃণমূল বিএনপি’ এবং ‘বিএনএম’ নামের দল দুটি বর্তমানে ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনে অংশ নিতে ‘যোগ্য প্রার্থী’র খোঁজে ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। এমনকি নির্বাচনে ৩শ আসনেই দলীয় ও জোটগত প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছে তারা। তাদের মূল টার্গেট বিএনপিদলীয় সাবেক মন্ত্রী-এমপি, অবমূল্যায়িত, সংক্ষুব্ধ, হতাশ, সাবেক সংস্কারপন্থি, বহিষ্কৃত বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতারা। ইতোমধ্যে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে দাবি শীর্ষ নেতাদের। আজ ৮ নভেম্বর বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে তৃণমূল বিএনপি একটি যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বিএনপি থেকে নানা কারণে বহিষ্কৃত বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো কোনো নেতা এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন দলে যোগ দিতে পারেন- রাজনীতিতে এমন গুঞ্জন রয়েছে। তবে এমন কারো বিষয়েই সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

যাদের নাম আলোচনায় : বিএনপির সাবেক ও বর্তমান কোনো কোনো নেতা নতুন এই দুই দলে যোগ দেবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জল্পনা-কল্পনা। অবশ্য ঘুরেফিরে কয়েকটি নামই আসছে অনেকের মুখে। আলোচনার শীর্ষে থাকা পদধারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার প্রমুখ।

বহিষ্কৃত ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলের খুলনা মহানগরের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কুমিল্লার সাবেক মেয়র মনিরুল ইসলাম সাক্কু প্রমুখ। সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন– সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, আলী নেওয়াজ খৈয়াম, ডা. জিয়াউল হক মোল্লা, নূরুল ইসলাম মনি, নজির হোসেন প্রমুখ। অবশ্য আলোচিত নেতাদের বেশির ভাগই এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন। নাম প্রকাশ না করে বিএনপির পদধারী এক নেতা জানান, এমন আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে দলই। এদের অনেকেই বিএনপি ছাড়বেন না; কিন্তু আলোচনায় নাম আসায় বিব্রত তারা।

বিএনপির নেতাদের নিয়ে যে কারণে গুঞ্জন : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি দলের একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার আশা ছিল তার। তবে কিছুদিন আগে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য দল থেকে তাকে শোকজও করা হয়েছিল। জবাবও দিয়েছেন তিনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি। দলও তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়দায়িত্ব দেয়নি। অসুস্থতার কথা জানিয়ে তিনিও দলের কর্মসূচিগুলো এড়িয়ে চলছেন। সমপ্রতি বরিশাল বিভাগীয় রোড মার্চ কর্মসূচিতে যোগ দেননি তিনি। অবশ্য এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতেও রাজি হননি।

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক। অবশ্য ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকেই ‘সাইডলাইনে’ রয়েছেন এ নেতা। দলীয়ভাবে কোনো দায়দায়িত্ব পাচ্ছেন না দীর্ঘদিন ধরে। বিগত নির্বাচনে মনোনয়নও পাননি। সর্বশেষ তাকে দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে পদাবনতি দিয়ে শুধু নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।

জানতে চাইলে এহছানুল হক মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, পদাবনতি হওয়ার পর অনেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। বেশ কয়েকবার তাকে নতুন দলে যোগদানের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, দল ত্যাগের প্রশ্নই আসে না। বিএনপির সঙ্গেই আছি এবং আমৃত্যু থাকব। তবে আগামীতে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আভাস দিয়েছেন।

বিএনপির বিশ্বাস কেউ দল ছাড়বে না : ভেতরে ভেতরে সতর্ক হলেও এই মুহূর্তে কেউ বিএনপি ছাড়বে- এমনটা ভাবেন না শীর্ষ নেতারা। তাদের দাবি- সাবেকদের গঠিত নতুন দলে বা ভিন্ন দলে যোগদান নিয়ে দল মোটেই চিন্তিত নয়। কারণ, এ ধরনের ঘটনা বিএনপির কোনো ক্ষতি আগেও করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও করতে পারবে না।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি একটা বিশাল রাজনৈতিক দল। এর আগে অনেক বার অনেক লোক দল ছেড়ে গেছে। দলের জন্য ভালোবাসা আছে এমন কেউই এই মুহূর্তে বিএনপি ছেড়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। তাছাড়া এর আগেও যারা দল ছেড়েছে, তারা কেউ বহিষ্কৃত কেউবা পদত্যাগকৃত নেতা। এসব নেতারা কেউই বিএনপিতে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। সুতরাং তারা যাওয়ার ফলে বিএনপি দুর্বল হয়েছে; এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, দল ভাঙা আজকের খেলা নয়। এক-এগারোর সময়ও হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেছে, ভাঙতে পারেনি, এখনো পারবে না, এটা আমার বিশ্বাস। এসব নিয়ে আমরা চিন্তিত নই।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে। জনগণই বিএনপির প্রধান শক্তি। অতীতে বহুবার বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে; কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়নি। বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে পারেনি। এবারো পারবে না।

তবে ‘কিংস পার্টির’ নেতারা বলছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর চিত্র পাল্টাতে পারে। বিশেষ করে চূড়ান্তভাবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচনমুখী পদবঞ্চিত নেতারা আগ্রহী হবেন। এক্ষেত্রে আরো অন্তত ১৫ দিন পর প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে সক্ষম হবে দলগুলো। জানতে চাইলে ‘তৃণমূল বিএনপি’র চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি খুব ভালোভাবে চলছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল বিএনপি প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করছে। বিএনপির বেশ কিছু নেতার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। আমি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টে ছিলাম ১৯৭৮ সালে। তখন আমি ন্যাপ করতাম। আমি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের সূচনালগ্নে ছিলাম। পরে যখন বিএনপি হয়, তখন থেকে আমি নেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।