চট্টগ্রামশুক্রবার , ৭ এপ্রিল ২০২৩
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চট্টগ্রামের খবর
  8. জাতীয়
  9. জেলা/উপজেলা
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. নারী ও শিশু
  13. নির্বাচনের মাঠ
  14. প্রেস বিজ্ঞপ্ত
  15. ফিচার
" />
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলগুলো কি পূর্ব তিমুর হতে যাচ্ছে ?

Nandi
এপ্রিল ৭, ২০২৩ ১২:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এম রুহুল আমিন: গত ৩০ বছরে অর্থাৎ ১৯৮১ সাল হতে ২০১১ সাল পর্যন্ত সরকারি আদমশুমারি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৩৪.৪৭%। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ১৯৯১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার ৯,৭৪,৪৪৫ জনের মধ্যে ৪,২৯,৯৫৪ জন ছিল মুসলমান, যা শতাংশ হিসাব মোট জনসংখ্যার ৪৪.১২% । অপরদিকে ২০১১ সালের মোট জনসংখ্যা ১৫,৯৮,২৩১ জনের বিপরীতে মুসলিম জনসংখ্যার পরিমাণ ছিল ৬,৮০,৮১০ জন, যা শতাংশের হিসেবে ৪২.৬০%। সে হিসেবে গত ৩০ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে মুসলিম জনসংখ্যা কমেছে প্রায় ২%। এর বিপরীতে ১৯৯১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীদের জনসংখ্যা যেখানে ছিল ২২,২০৬ জন ( মোট জনসংখ্যার ২.২৮%), যা ২০১১ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫২,০৬৬ জনে। শতাংশের বিচারে যা বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ৩.২৬%। উপরের পরিসংখ্যান থেকে সহজে অনুমেয় যে, গত ৩০ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক হারে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটেছে, যা বর্তমানেও চলমান রয়েছে।

এখন সঠিক হিসাব আদমশুমারি হলে বোঝা যাবে ৷

অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, আর্থ সামাজিক উন্নয়নের অন্তরালে দেশি এবং বিদেশি কিছু স্বার্থন্বেষী মহলের উদ্যোগে পরিচালিত কপিতয় এনজিও দরিদ্র উপজাতি জনগণকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরের হীন চক্রান্তে নিয়োজিত রয়েছে। এক্ষেত্রে কারিতাস, ওয়ার্ল্ড ভিশন, সনে ইন্টারন্যাশনাল, কমিউনিটি এডভান্সমেন্ট ফোরাম, ব্যাপ্টিস্ট চার্চ অভ বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য। এ সকল এনজিও পার্বত্য চট্টগ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং স্বকীয়তা বিসর্জনের মাধ্যমে এই ধর্মান্তকরণের কার্যক্রম পরিচালিত করছে। ফলশ্রুতিতে, বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারীদের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, গত ১ জানুয়ারি ২০১৮ হতে এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫৩ জন উপজাতীয় ব্যক্তিবর্গ এসকল এনজিওদের প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে নিজস্ব ধর্ম-সংস্কৃতি বিসর্জন দিয়ে খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। এক্ষেত্রে এসকল এনজিওদের অন্যতম লক্ষবস্তু হল ক্ষয়িষ্ণু কিছু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী যথা, বোম, চাক, লুসাই ও পাংখো নৃ গোষ্ঠী, যাদের মোটামুটি সকলেই খৃষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। এর বাইরে সম্প্রতি তারা ত্রিপুরা, তনচংগা. মারমা ও চাকমা জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে যে ব্যাপকহারে ক্রিশ্চিয়ানাইজেশন হচ্ছে তার আরেকটি প্রমাণ এখানে গির্জার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া। আগস্ট ২০১৭ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে যেখানে গির্জার সংখ্যা ছিল ৩৬৫টি, তা ২০২০ সালের আগস্টের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪০টিতে।এই পরিসংখ্যান থেকেও প্রতীয়মান হয় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিষ্টধর্মের প্রভাব কিভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আগামী ২০ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫০ ভাগ মানুষ খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারীতে পরিণত হবে।

জুন (২০১১) মাসে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় কোরআন শিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাই, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, বান্দরবান জেলায় এখন মুসলমান ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬২ জন। খ্রিস্টান ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৭ জন। বৌদ্ধ ৩০ হাজার ৫৪৬ জন। হিন্দু ১০ হাজার ৭৯৬ জন। দু’দশক আগে এ জেলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যার দিকে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও এখন তারা তৃতীয় স্থানে চলে এসেছে। খ্রিস্টান ধর্মানুসারীদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দ্বিতীয়।’

তবে এই লেখার উদ্দেশ্য ক্রিশ্চিয়ানাইজেশনের বিরুদ্ধে নয়, এ ধর্মের অনুসারীদের বিরুদ্ধে নয়। বরং পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ধর্মান্তরের সঠিক চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে সুবিধাবাদী চিহ্নিত কিছু গোষ্ঠী ও ব্যক্তিবর্গের মুখোশ খুলে দেওয়া। এসকল তথ্য উপাত্ত থেকে সহজে অনুমেয় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে তথাকথিত ইসলামীকরণের এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও নীলনকশার একটি অংশমাত্র। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, পাবর্ত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলো, তথাকথিত বুদ্ধিজীবী এবং তাদের দোসররা বিভিন্ন সময় সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ উপজাতি জনগোষ্ঠীকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করার অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসলেও এ সকল এনজিও কর্তৃক সাধারণ দারিদ্র উপজাতী জনগোষ্ঠীকে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে দেখা যায় না। মূলত ব্যক্তিস্বার্থ এবং অর্থের লোভে এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তারা নিশ্চুপ বলে সহজে প্রতীয়মান হয়।                                                                                                                                                                                                                                                          

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বৌদ্ধ এবং হিন্দুরা যে হারে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে তা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে বৌদ্ধ জনসংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে এলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অথচ বৌদ্ধ ধর্মের ধারক-বাহকরা তাদের ধর্মের ওপর এই হুমকির বিষয়ে একেবারেই উদাসীন অথবা সব কিছু জেনে-শুনেও অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা এবং পাহাড়ি বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও তাদের ধর্মের ওপর খ্রিস্টান ধর্মের থাবার ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারছেন না। বরং তারা মিশনারিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উল্টো মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বেড়াচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, সেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোকে জোর করে মুসলমান বানানো হচ্ছে বলে বাংলাদেশ সরকার, সেনাবাহিনী এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এনজিও এবং দাতাসংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক বিদেশি নাগরিককে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু তারপরও এদের দৌরাত্ম্য থামেনি, বরং দিন দিন বাড়ছে। অনেক সময় পর্যটকের ছদ্মবেশেও বিদেশি নাগরিকরা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বাঙালি মুসলমান ও বাংলাদেশ বিদ্বেষী মনোভাব উস্কে দিয়ে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের কাজে নেমে পড়েন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতেও পাহাড় থেকে বিদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন সময় বহিষ্কৃত হতে হয়েছে। কিন্তু তাতেও তাদের তৎপরতা কমেনি।

আপাতদৃষ্টিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই ধর্মান্তর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে বিদেশি শক্তিগুলোর কাছে এই অঞ্চলটির গুরুত্ব অপরিসীম। ভবিষ্যতে এখানে একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে পারলে একাধারে ভারত, চীন এবং মায়ানমার উপর কঠোর নজরদারি ও চাপ সৃষ্টি করা যাবে। সেইসাথে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে আরও দুর্বল করে তার মাধ্যমে নিজ স্বার্থে ইচ্ছামত নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এক্ষেত্রে এই ষড়যন্ত্রকে অনেকেই পূর্ব তিমুরের সাথে তুলনা করে থাকে।

কাকতালীয়ভাবে দেখা যায় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন ১৩,২৯৫ বর্গ কিলোমিটার এবং পূর্ব তিমুরের আয়তন ১৪,৫০০ বর্গ কিলোমিটার যা প্রায় কাছাকাছি। ১৯৭৫ সালে পূর্ব তিমুরে ক্যাথলিক খ্রিস্টান এর জনসংখ্যার হার ছিল ৩০–৪০% যা ৯০ দশকে ৯০% পৌঁছায়। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, যে তিন পার্বত্য জেলায় ২০১৪ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ৫২,৬৯৯ জন ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র ২০১৪–১৫ সালে সর্বমোট ৫০৬টি পরিবারের ২,২২২ জন ধর্মান্তরিত হয় এবং ২০১৫–১৬ সালে এ সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে সর্বমোট ১,৬৮৯টি পরিবারের ৫,৬৮৯ জন ধর্মান্তরিত হয়েছেন বলে জানা যায়। একই সাথে ২০১০ সালে তিন পার্বত্য জেলায় চার্চ এর সংখ্যা ছিল সর্বমোট ২০৯টি যা ২০১৫ সালে বেড়ে ২৫৭টিতে গিয়ে পৌঁছেছে। কিছু এনজিও এবং মিশনারী অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং সন্তানদের শিক্ষা সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ধর্মান্তকারীদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সাহায্য করছে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বলা হচ্ছে যে, খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে অজীবন তারা যাবতীয় সুবিধা পেতে থাকবে এবং কেউ তাদের জায়গা জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারবে না। দরিদ্রতার সুযোগ এবং জমির স্থায়ী মালিকানা, বিদেশে শিক্ষা ও নাগরিকত্ব, চাকুরি প্রভৃতির লোভ দেখিয়ে সহজ সরল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ব্যাপকহারে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরকরণ করা হচ্ছে। কাজেই প্রতি বছরে এই সংখ্যা তিনগুণ হিসেবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে সেদিন আর বেশী দূরে নয় যখন পার্বত্য এলাকার একটি বৃহৎ জনসংখ্যা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ভূক্ত হয়ে যাবে।খ্রিষ্টানাইজেশান প্রক্রিয়ার মাধ্যেমে মাত্র ২০ বছরের মাথায় পূর্ব তিমুরকে ইন্দোনেশিয়া থেকে আলাদা করে দিয়ে জাতিসঙ্ঘের নেতৃত্বে একটি পৃথক রাষ্ট্র করে দেয়া হল। তাই ভবিষ্যতে এই অঞ্চলটির ভাগ্য যেন পূর্ব তিমুরের মতো না হয় সে বিষয়ে সরকার এবং দেশের জনগণকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

একটি স্বাধীন সার্বভৌম এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে যেকোন ব্যক্তি যেকোন ধর্ম গ্রহণ এবং পালনের অধিকার রয়েছে, তবে তবে এই ধর্মান্তরকরণ যদি সেটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত, ষড়যন্ত্র, শঠতা বা প্রতারণার মাধ্যমে হয় তখনই তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়- যা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ঘটেছে। দেশবাসী আশা করে, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়টি দিকে দৃষ্টিপাত করবেন এবং চট্টগ্রাম ভূখণ্ডকে বাংলাদেশ হতে বিচ্ছিন্ন করে একটি খ্রিস্টীয় জুমল্যান্ড রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। আসুন এবার দেখা যাক ভারতের সিভেন সিস্টার রাজ্যগুলোর দিকে ৷

মুলত কল্পনা একই সুত্র থেকে -১৯০০ সালের দিকেও ভারতের সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যগুলোতে ১০% খ্রিস্টান ছিলো না। কিন্তু বর্তমানে এই সাতটি রাজ্যের পাঁচটিই খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ।
সেভেন সিস্টার্সের কোন কোন রাজ্যগুলো খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ?

সেভেন সিস্টার্সের সাতটি রাজ্য হলোঃ
ক) আসাম
খ) ত্রিপুরা
গ) মেঘালয়
ঘ) মিজোরাম
ঙ) নাগাল্যান্ড
চ) মনিপুর
ছ) অরুণাচল
এদের মধ্যে প্রথম দুইটি প্রদেশ ছাড়া বাকি পাঁচটা প্রদেশই খ্রিস্টান অধ্যুষিত।

২. সেভেন সিস্টার্সের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যতার সাথে খ্রিস্টান ধর্ম বিকাশের সম্পর্ক কি?

মূল ভারত থেকে সেভেন সিস্টার্স বলতে গেলে বিছিন্ন প্রায়। প্রস্থে পঞ্চাশ কিলোমিটারের মতো ” শিলিগুড়ি করিডোর “ দ্বারা সেভেন সিস্টার্স মূল ভারতের সাথে খুবই দুর্বলভাবে সংযুক্ত। আবার এই অঞ্চলটি পাহাড়ী হওয়ার এই সরু করিডোরের মাধ্যমে যাতায়াত আরো কষ্টকর। ফলে মূল ভারতের সাথে সেভেন সিস্টার্সের রাজনৈতিক যোগাযোগ ইংরেজ আমলের আগ পর্যন্ত ছিলো না। এমনকি পরাক্রমশালী মোঘল সাম্রাজ্য ও এই অঞ্চলকে বাগে আনতে পারেনি।

ব্রিটিশ শাসনামলে সর্বপ্রথম সেভেন সিস্টার্স মূল ভারতের সাথে ভৌগোলিক এবং রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত হয়। সে সময় এই অঞ্চলের উপজাতিরা শিক্ষা – দীক্ষা, জীবনযাত্রার মানে ব্যাপক পিছিয়ে ছিলো। খ্রিস্টান মিশনারীরা সে সময় এই অঞ্চলে নানা ধরণের মানবিক তৎপরতা শুরু করে। তবে এসব মানবিক তৎপরতার আড়ালে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার করা ছিলো এদের অন্যতম লক্ষ্য।
ভারত স্বাধীন হওয়ার পরেও মিশনারীদের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। কারণ ১৯৪৭ সালের আগেই সেভেন সিস্টার্সে তাদের শক্ত ভিত গড়ে উঠে।

৩,সংখ্যা গরিষ্ঠ খ্রিস্টান প্রদেশসমূহ!

ক) মেঘালয়ঃ বাংলাদেশের সিলেট এবং ময়মনসিংহ বিভাগের উত্তর অংশটা বরাবর ভারতের মেঘালয় রাজ্য অবস্থিত। অবশ্য অখন্ড ভারতবর্ষে মেঘালয় অঞ্চলটি আসামে ছিলো। আসামের ঐতিহাসিক শিলং শহর বর্তমানে মেঘালয়ের রাজধানী।
১৯০১ সালে মেঘালয়ে মাত্র ৬% খ্রিস্টান ছিলো। ১৯৪৭ এ এসে এটি ২৫% এ দাঁড়ায়। আর বর্তমানে মেঘালয়ে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ৭৫%। মূলত ব্রিটিশ আমলে অনেকগুলো মিশনারী স্কুল, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয় মেঘালয়ের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে। আর সেখানকার মিশনারীদের প্রচেষ্টার ফলে মেঘালয় এখন খ্রিস্টান অধ্যুষিত একটি প্রদেশ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা উপমহাদেশ ছেড়ে চলে গেলেও এই অঞ্চলে মিশনারী কার্যক্রমে কখনোই ভাটা পড়েনি।

খ) মিজোরামঃ বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের ভারত সীমান্তে অবস্থিত মিজোরাম প্রদেশটিও খ্রিস্টান ধর্ম অধ্যুষিত।
১৯০১ সালে প্রদেশটিতে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ১% ও ছিলো না। ১৯৫১ সালে এসে এটি ৯০% এ দাঁড়ায়। বর্তমানে মিজোরামে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ৮৭%। মিজোরাম প্রদেশটি মিজো আদিবাসী অধ্যুষিত। মিজো জনগোষ্ঠীর প্রায় পুরোটাই খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।

গ) নাগাল্যান্ডঃ নাগা উপজাতি অধ্যুষিত এই প্রদেশটিও বর্তমানে খ্রিস্টান অধ্যুষিত। অথচ ১৯০১ সালে এখানকার খ্রিস্টান জনসংখ্যা ১% ও ছিলো না। ১৯৫১ সালে খ্রিস্টান জনসংখ্যা বেড়ে ৪৬% হয়। বর্তমানে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ৮৮%।

প্রদেশটির প্রভাবশালী নাগা উপজাতির প্রায় পুরো অংশই খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসী।

ঘ) মনিপুরঃ মণিপুরী উপজাতি অধ্যুষিত এই প্রদেশটি খ্রিস্টান ও হিন্দু জনসংখ্যা ২০১১ সালে প্রায় সমান ছিলো। তবে ২০২১ সালের আদমশুমারীর পর প্রদেশটি নিশ্চিতভাবে খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে।১৯২১ সালে মণিপুরে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ছিলো ১%। ১৯৫১ সালে এটি বৃদ্ধি পেয়ে ১২% হয়। বর্তমানে মণিপুরে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ৪১.২৯%। প্রদেশটির প্রভাবশালী মণিপুরী জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ হিন্দু হলেও অন্য উপজাতিগুলোর মধ্যে খ্রিস্টান ধর্মের প্রভাব সর্বাধিক।

ঙ) অরুণাচলঃ চীন সীমান্তবর্তী সংঘাতপূর্ণ এই প্রদেশটিও বর্তমানে খ্রিস্টান অধ্যুষিত। অথচ ১৯৫১ সালে এখানে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ১% ও ছিলো না। ১৯৯১ সালে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ১০% হয়। আর বর্তমানে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ৩০%। প্রদেশটিতে হিন্দু জনসংখ্যা ২৯%। স্থানীয় একটি ধর্মের অনুসারী ২০% এর মতো। ধারণা করা হচ্ছে ২০২১ সালের আদমশুমারীর পর খ্রিস্টান জনসংখ্যাা ৪০% এর কাছাকাছি হবে।

৪. দক্ষিণ ভারতের দুইটি প্রদেশে খ্রিস্টান জনসংখ্যা মোটামুটি পর্যায়ের হলেও সংখ্যা গরিষ্ঠ নয়। কেরালাতে ১৮% খ্রিস্টান এবং গোয়াতে ২৫% খ্রিস্টান রয়েছে। কেন্দ্র শাসিত দক্ষিণ ভারতীয় অঞ্চল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ২১%।
মজার ব্যাপার হলো, খ্রিস্টান সংখ্যা গরিষ্ঠ উত্তর পূর্ব ভারতের ৫টি প্রদেশে মোট খ্রিস্টান জনসংখ্যা ৬০ লাখ। কেরালা প্রদেশেই খ্রিস্টান রয়েছে ৬০ লাখ।ফিগার হিসেবে কেরালার পর সবচেয়ে বেশি খ্রিস্টান রয়েছে দক্ষিণ ভারতের আরেকটি প্রদেশ তামিলনাড়ুতে। তামিলনাড়ুর মোট জনসংখ্যার মাত্র ৬% খ্রিস্টান হলেও প্রদেশটিতে খ্রিস্টান জনসংখ্যা ৪৪ লাখ।

আমাদের পাবর্ত্য এলাকাগুলোকে নিয়ে ভাবতে হবে ৷ সকল ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করতে হবে প্রশাসনকে ৷

লেখকঃ এম রুহুল আমিন,সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
" />