বিশ্বজুড়ে যথাযোগ্য গুরুত্ব ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ‘৭৮তম আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ইউনিয়ন দিবস-২০২৬’ উদযাপিত হয়েছে। ক্রেডিট ইউনিয়নের বিশ্ব সংস্থা ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অব ক্রেডিট ইউনিয়নস (ডব্লিউওসিসিইউ) এ বছর দিবসটির মূল সুর নির্ধারণ করেছে—‘Cooperative Finance : A Steady Signal in a Noisy World’, যার বাংলা অনুবাদ ‘সমবায় অর্থায়ন : অশান্ত বিশ্বের অবিচল আস্থা’।
দিবসটি উপলক্ষে ডব্লিউওসিসিইউর প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও পল টেইনিন মন্তব্য করেন, বর্তমান বিশ্ব মানুষকে একই সঙ্গে হাজারো দিকে ধাবিত করছে। তবে সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির বিপরীতে ক্রেডিট ইউনিয়ন সর্বদা একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে কাজ করে আসছে। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পর্যায়ে এবং ১৯৬৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছরের অক্টোবর মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবার এই দিবস পালন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশেও সমবায় ক্রেডিট ইউনিয়নের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৫৫ সালে ফাদার চার্লস জে, ইয়াং সিএসসি ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে মাত্র ৫০ জন সদস্য নিয়ে ‘দ্য খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি., ঢাকা’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই খাতের সূচনা করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকা ও গাজীপুর জেলার ১১টি ক্রেডিট ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘দ্য কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লি. (কাল্ব)’ গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালের ৩ জুন কাল্ব সমবায় অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন লাভ করে।
বর্তমানে দেশে ক্রেডিট ইউনিয়ন আন্দোলনের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কাল্ব-এর আওতাধীন নিবন্ধিত ক্রেডিট ইউনিয়নের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪২২টিতে। এসব সমবায় প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে নিবন্ধিত সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ এবং তাদের সম্মিলিত মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।




