দি ক্রাইম ডেস্ক: সীতাকুণ্ডে সলিমপুর ইউনিয়নের সিডিএ আবাসিক গেইট সংলগ্ন এলাকায় একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের তেলের ডিপোতে অবৈধভাবে মওজুদ রাখা ২৫ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ পরিচালিত এক অভিযানে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের হদিশ মিলে। অভিযানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর এলাকার ২০০ মিটার পূর্বে রেলগেইট সংলগ্ন সিডিএ সলিমপুর আবাসিক এলাকা প্রবেশ গেটের উত্তর পাশে স্ক্র্যাপ জাহাজের কালো তেলের ডিপো। ওই ডিপোতে রয়েছে তিনটি ডিজেল বহনকারী ভাউজার (ট্যাংক) ও শতাধিক ২০০ লিটারের তেলের ড্রাম।
গতকাল সন্ধ্যায় এই ডিপোতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লা আল মামুনসহ আইন শৃংখলা বাহিনী ও পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা। স্ক্র্যাপ জাহাজের কালো তেলের ডিপোটির মালিক আনোয়ার হোসেন ও জাহিদ হোসেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের প্রাথমিক অনুসন্ধানের উদ্ধৃতি দিয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় একটি অসাধু চক্র অবৈধভাবে জ্বালানি তেল অপসারণ করে তা বিভিন্ন স্থানীয় বিক্রেতার নিকট সরবরাহ করে থাকে। উদ্ধারকৃত তেল পুলিশ হেফাজতে সংরক্ষিত রয়েছে এবং এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪–এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এই লক্ষ্যে গতকাল চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত মোট ১৮টি অভিযান পরিচালনা করে। এই সময় ৩টি মামলা দায়ের এবং ১ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে মোট ৯৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং মোট ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। অভিযানগুলোর মাধ্যমে ৩১ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সকল তেল ডিপো, পেট্রোল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট তেল কারবারিরা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির আওতায় রয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিপুল পরিমান জ্বালানি তেল জব্দের খবর পেয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, যমুনা অয়েল লিমিটেডের সহকারী মহা ব্যবস্থাপক (এজিএম) ক্যাপ্টেন শেখ জাহিদ হোসেনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উক্ত ডিপোতে উপস্থিত হন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাংবাদিদের বলেন, অসৎ ব্যবসা হাসিল করতে কিছু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে তেল মওজুদ করছে। তারা প্রকৃত ব্যবসায়ী হতে পারে না। তারা দেশে অস্থীতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তাদের সর্তক করা হয়েছে। ডিজেল, অকটেন ও পেট্টোল সব মওজুদ আছে। এতে অতংকিত হওয়ার কিছূ নেই।
তিনি আরও বলেন, সোমবার ২৫ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধারসহ চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে আমরা ৩৫ লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছি। অবৈধ তেল মওজুদ রাখার অভিযোগে ডিপোর মালিকদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশ মামলা দায়ের করবে বলে জানান তিনি।
যমুনা অয়েল লিমিটেডের সহকারী মহা ব্যবস্থাপক (এজিএম) ক্যাপ্টেন শেখ জাহিদ হোসেন বলেন, তিনটি ভাইজার (ট্যাংক) ও ২০০ লিটার টিনের ড্রামে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গত দুই দিনে উপজেলার চারটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে তিনটি পেট্রোল পাম্পে কোনো ধরনের অনিয়ম পাননি। কিন্তু ভাটিয়ারী ফিলিং স্টেশনে ক্রয় রেজিস্টারের সঙ্গে তার স্ট্রকের কোন মিল না থাকায় ওই পেট্রোল পাম্পকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সোমবার সন্ধ্যায় অভিযানে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে।
ভাটিয়ারী বি এন সোনার গাঁ ফিলিং স্টেশন এর ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, তেল সংকটের কারণে বিভিন্ন রকম হয়রানি ও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি। উপজেলার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে পুলিশ মোতায়েনে অতি জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অপরদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করে ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, মজুত প্রবণতা থাকায় সংকট কৃত্তিমভাবে তৈরি হয়েছে। সরকার সচেতনতা তৈরি করছে। দেশব্যাপী ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করে ১৫৩টি মামলাসহ ৭৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তেল মজুত করায় ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ১ লাখ ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ২২ হাজার লিটার অকটেন ও ২৩ হাজার লিটার পেট্রোলসহ মোট ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।




